হাইতিতে সাবেক সেনাদের সঙ্গে সহিংসতা চলাকালে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে আন্দোলনকারীরা। দুই দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছানোর পর দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমে আরো মারাত্মক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।
বিবিসি বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে নিহত ওই ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য সন্দেহে মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রায় একশ সাবেক সেনা রাজধানীতে পিক-আপ ট্রাক ও মটরসাইকেলে চড়ে নিজেদের জানান দিচ্ছিল। রোববার হাইতির প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার কোনো উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়নি। কারচুপির অভিযোগ এবং সহিংসতার কারণে গেল মাসে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
হাইতির প্রথম দফা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মিশেল মর্টেলি সমর্থিত প্রার্থী জোভেনেল মোসি এগিয়ে ছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন এক তৃতীয়াংশ ভোট। আর বিরোধী প্রার্থী পেয়েছিলেন এক চতুর্থাংশ ভোট। কিন্তু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করে রান অফ ভোট বর্জন করেন বিরোধী প্রার্থী। এদিকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মর্টেলির সমালোচকেরা বলছেন, এ অবস্থায় তিনি ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন কিংবা একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে পারেন।
অবশ্য এসব ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়নি। কয়েক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ছয় বছর আগে প্রলয়ঙ্করী এক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাইতি। ওই ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যারিবীয় দেশটি। বিবিসি।