উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মসলিনের পুনর্জন্ম সম্ভব

মুঘল আমলে মেঘনা ও শীতলক্ষ্যার পাড়ে যে গুটি কার্পাস তুলার চাষ হতো, তা দিয়ে তৈরি করা যেতো ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়। তবে মসলিন কাপড় তৈরির উপযোগী সেই পরিবেশ আর নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়াতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আর ব্রিটিশ শাসনের পর থেকে হারিয়ে যাওয়া জগত বিখ্যাত সেই মসলিনের মৌলিক স্মৃতি চিহ্নও হারিয়ে যায় দেশ থেকে।
 
তবে গবেষকরা মনে করছেন, মসলিনের ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবারও হারিয়ে যাওয়া সেই মসলিনের  সেই গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন গবেষণা করে আসল গুটি কার্পাসের বীজ উৎপাদন, গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ তাঁতিদের সম্পৃক্তকরণ ও বাজার সৃষ্টি ওপর গুরুত্ব দেয়া। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী ‘মসলিন’ উত্সবের অংশ হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা।
 
এই সংলাপের সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়া। প্যানেল আলোচক ছিলেন মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন এবং শিল্পমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। সংলাপ পরিচালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান।
 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া এন্ড অ্যালবার্ট জাদুঘরের সিনিয়র কিউরেটর রোজমেরি ক্রিল। মূল প্রবন্ধে তিনি মসলিনের ইতিহাস,ঐতিহ্য, ধরন বির্বতন তুলে ধরেন। মসলিন বাংলার ইতিহাস হলেও এখন আর এদেশে একখণ্ডও মৌলিক মসলিন নেই। তবে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মসলিন কাপড় আছে।
 
মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়া ঐতিহ্যবাহী মসলিন সুতার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি তাঁত বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে কাজ করার আহবান করেন।
 
ড. হামিদা হোসেন নতুন প্রজন্মের সাথে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় ঘটানোর জন্য একটি বস্ত্র জাদুঘর প্রতিষ্ঠানর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আজকাল বাজারে যে জামদানি পাওয়া যায় তা মসলিনেরই একটি ধারা উল্লেখ করে তা সংরক্ষণে কিছু প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি মসলিন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করে বলেন, দক্ষ তাঁতিদের সম্পৃক্ত করেই মসলিন ফিরিয়ে আনতে হবে।