অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের যে সুদৃঢ় ভিত রচিত হয়েছে তাতে সরকারের সুদক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্ব এবং জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
তিনি রবিবার সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রভাব দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল স্পর্শ করেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উৎকর্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি পলিসি লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফরেন পলিসি’সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ১শ’ চিন্তাবিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নাম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য এই তালিকার ‘ডিসিশন মেকার্স’ক্যাটাগরিতে তার অবস্থান রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বৃদ্ধিজীবীর মধ্যে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এছাড়া জনগণের কল্যাণে সর্ব পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তি সেবার বিস্তারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ যা জাতির জন্য বয়ে এনেছে অনন্য সম্মান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে উন্নীত হয়েছে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে। ক্রমশ কমতে থাকা মূল্যস্ফীতি, নিম্নমুখী সুদের হার, স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় হার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, দক্ষ ব্যয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি, লিঙ্গসমতা, পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে হয়েছে প্রশংসনীয় অগ্রগতি। পাশাপাশি কর্মসৃজন ও প্রকৃত মজুরির বৃদ্ধিতে দারিদ্র্য ও অসমতা কমেছে এবং সামাজিক অন্যান্য সূচকসমূহে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো। জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার যে ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গ্রহণ করেছে, নানামুখী বাঁধা সত্ত্বেও তা ক্রমশ যৌক্তিক ও প্রত্যাশিত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিকে এই দায় থেকে মুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা সমতুল্য দেশগুলোর একই সময়ের প্রবৃদ্ধির তুলনায় উচ্চতর। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিখাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ২৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ১২ মাসের গড় ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বরের ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২ শতাংশে এসেছে।