রিকশাচলককে গুলির ঘটনায় এসআই বরখাস্ত, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের গুলিতে আহত রিকশাচলক সাজু পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রবিবার রাতে কল্যাণপুর পোড়া বস্তি সংলগ্ন বেলতলি মাঠে শটগান ঠেকিয়ে তার পায়ে গুলি করে পুলিশ। এতে তার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির প্রায় অর্ধেক উড়ে যায়।
 
তবে সাজু আহত হওয়ার একদিন পরেই সুর পাল্টায় পুলিশ। ঘটনার দিন পুলিশ গুলির বিষয়টি স্বীকার করলেও এখন বলছে, মিস ফায়ারের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই রেজদি মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু রিকশা চালক সাজুর দাবি, তাকে ইচ্ছা করেই পুলিশ গুলি করেছে।
 
এদিকে বিনা কারণে রিকশাচালক সাজুকে গুলির প্রতিবাদে কল্যাণপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে বস্তিবাসী। মিরপুরে চা দোকানি বাবুল মাতব্বরের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কল্যাণপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে রিকশাচালক সাজুকে গুলি করার গুরুতর অভিযোগ উঠে। ঘটনার পর গুলির ঘটনা স্বীকার করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এডিসি মাসুদ আহমদ।
 
তিনি জানান, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার পর বলা যাবে আসলে কী ঘটেছিল। পরে তিনি বলেন, মিসফায়ারে কারণে সাজুর পায়ে গুলি লেগেছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রেজদি মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 
সোমবার সকালে পোড়া বস্তির শতাধিক নারী-পুরুষ রাস্তায় পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা কল্যাণপুরের সড়কে অবরোধের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, চাঁদা না দেয়ায় পুলিশ সাজুকে গুলি করেছে।
 
আহত সাজু বলেন, তাকে ইচ্ছা করেই পুলিশ গুলি করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে কয়েকজন বন্ধুসহ আগুন জ্বালিয়ে তাপ নেয়ার সময় হঠাৎ তিনজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত হয়ে মারধর শুরু করে। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে পাশেই বঙ্গবন্ধু সৈনিক ক্লাবের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেদম মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার বাম পায়ের পাতায় শটগান ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। তবে কী কারণে পুলিশ তাকে গুলি করলো সে বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি।
 
চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে মিরপুর উপ-কমিশনার (ডিসি) কাইয়ূমুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ ইচ্ছে করে গুলি করে নাই। এটি মিস ফায়ার। তবুও আমরা দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।
 
প্রসঙ্গত, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জমিতে গড়ে ওঠা কল্যাণপুর পোড়া বস্তি ২১ জানুয়ারি উচ্ছেদে যায় কর্তৃপক্ষ। ওই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ওই বস্তির বাসিন্দাদের কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয় এবং পরদিন রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অবশ্য, হাইকোর্ট ওই বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলে আংশিক উচ্ছেদ করেই ফিরে যায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।