চাঁদা না পেয়ে চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় শাহ আলী থানার সাবেক ওসি শাহীন মণ্ডলসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশের মিরপুর বিভাগের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদ আহমদ খানকে প্রধান করে গঠিত দুই সদস্যের এই কমিটি মঙ্গলবার পুলিশের বিভাগের উপ-কমিশনার কায়ুমুজ্জামানের কাছে এ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি চার পুলিশ সদস্য হলেন— এসআই মমিনুর রহমান খান, নেয়াজউদ্দিন মোল্লা, এএসআই দেবেন্দ্রনাথ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দিন।
এর আগে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরের উপ-কমিশনার (শৃঙ্খলা) টুটুল চক্রবর্তী রবিবার পুলিশ কমিশনারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন।
বাবুলের পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে পুলিশ বাবুলের দোকানের কেরোসিনের চুলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল। এতে কেরোসিন ছিটকে বাবুলের গায়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর পুলিশ অগ্নিদগ্ধ বাবুলকে হাসপাতালের বদলে থানায় নিয়েছিল বলে অভিযোগ করে তার পরিবারের সদস্যরা। থানা থেকে পরে পরিবারের সদস্যরাই দগ্ধ বাবুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, গত বুধবার রাতে শাহ আলী থানার পুলিশের সোর্সরা মিরপুর ১ নম্বরের চিড়িয়াখানা লেকের পাড়ে কিংশুক সমবায় সমিতির পাশে চা-দোকানি বাবুল মাতুবরের (৫০) কাছে যান। তখন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সোর্স দেলোয়ারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় বাবুল কেরোসিন তেলের জ্বলন্ত চুলার ওপর পড়ে যান। এতে বাবুলের সারা শরীর পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের অদূরে থাকা শাহ আলী থানার এসআই মমিনুর রহমান, এসআই নিয়াজউদ্দিন মোল্লা ও এএসআই দেবেন্দ্র নাথ উপস্থিত ছিলেন। তারা ইচ্ছা করলে এগিয়ে গিয়ে বাবুলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি। এ ক্ষেত্রে তারা কর্তব্য পালনে অবহেলা ও গাফিলতি করেছেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।