পড়তে পরবাসে

মানবসেবার ইচ্ছে...

বাবার স্বপ্ন, ছেলে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে। সেই  স্বপ্ন নিয়েই পাড়ি জমানো অজানা অচেনা এক দেশে। যে দেশ সম্পর্কে জ্ঞান বলতে শুধু এতটুকুই যে আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ। যে দেশের ভাষা সংস্কৃতি, মানুষের আচার আচরণ সম্পর্কে জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম বিদেশে পড়াশোনা করার। কিন্তু সেটা যে রাশিয়া হবে কখনই ভাবা হয়নি। রাশিয়া সরকার প্রদত্ত বৃত্তি নিয়ে ২০১৩ সালে বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য রাশিয়া আসি। শুরুতে রাশিয়ান ভাষা ও প্রি-মেডিক্যাল কোর্স শেষ করে ভরোনেঝ স্টেইট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই।
 
আমি যে শহরে থাকি সেই শহরটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত   গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই শহরটি পুরোপুরিভাবে বিধ্বস্ত করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে রাশিয়া সরকার মনোযোগ দেয় শহরটির পুনঃনির্মাণে। তাই আধুনিক ভরোনেঝ একটি পরিপাটী গোছালো,      পরিষ্কার শহর।
 
আমি যেহেতু মেডিক্যালে পড়ি, সেহেতু রাশিয়ার মেডিক্যাল নিয়ে একটু বলতে চাই। রাশিয়ার প্রত্যেকটা  বড় বড় শহরেই কমপক্ষে একটি করে মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি আছে। আর শহরের সব বড়বড় হসপিটালগুলো ওই ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই রাশিয়ার যুদ্ধকালীন, যুদ্ধপরবর্তী স্বাস্থ্যসেবাসহ সবকিছু এক মহাপরিকল্পনার অন্তর্গত। আর এর অংশ হিসেবেই শহরের বড় বড় সব হসপিটালগুলো শহরের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। যাতে করে যুদ্ধের সময় বড় বড় শহরগুলো আক্রান্ত হলেও হসপিটালগুলো অক্ষত থাকে এবং আক্রান্ত মানুষদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া শেষে খুব সহজেই ছোট শহর অথবা গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া যায়।
 
এবার প্রাত্যহিক জীবনের বিষয়ে আসি। প্রচুর ব্যস্ততার মাঝে কাটে দিনগুলো। সোমবার থেকে শনিবার-৬ দিন ক্লাস। রবিবার একদিন ছুটি। মাঝে মাঝে মনে হয় সপ্তাহ ৮ অথবা ১০ দিনে হলে ভাল হত। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছুটির দিনটি শেষ হয়ে যায়। আবার সোমবার আসে, আবার সেই ক্লাস, সেই লেকচার, সেই ল্যাব। ছুটির দিনে চেষ্টা করি ভাল কোনকিছু রান্না করার, কাপড় পরিষ্কার করাসহ অনেক ব্যক্তিগত কাজ করার জন্য। রবিবার ছাড়া অন্য দিনে সময় হয় না।
 
রাশিয়াতে পড়াশুনা করার সবচেয়ে ভাল দিক হল শিক্ষকদের আন্তরিকতা। শিক্ষকরা মায়ের মত যত্ন করে পড়ান। জীবনে অনেক শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ হয়েছে। আমার দেখা সবচেয়ে ভাল শিক্ষকদের মধ্যে রাশিয়ান শিক্ষকরা অন্যতম। তাদের প্রতি কি করে সম্মান প্রদর্শন করলে যথেষ্ঠ হয়, মাঝে মাঝে এটি আমি বুঝতে পারি না। পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করি সবসময়।
 
 
 
মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম
 
ভরোনেঝ স্টেইট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি

 
ভরোনেঝ, রাশিয়ান ফেডারেশন