সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারী কে? এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি র্যাব। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে বিপাকে আছে সংস্থাটি। এখনো খুনি শনাক্ত করা যায়নি। সাগর-রুনি যে রাতে খুন হন, সে রাতে বাইরে থেকে কেউ তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার আলামত পাওয়া যায়নি। ঘরের আসবাবপত্র, সাগর-রুনির বাসার সকল জামা-কাপড়ের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর এই দুইজনের নমুনা ছাড়া বাকি কারও নমুনা পাওয়া যায়নি।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রুনির মোবাইল ফোনের কললিস্ট অনুযায়ী ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ড অপর একটি মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য অপরপ্রান্তের ব্যক্তিকে বলেছেন।
এই সময়ের কথোপকথনেই রয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আসল কাহিনী। রয়েছে খুনিদের পরিচয়। অপরপ্রান্তের ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলেই ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন সম্ভব। তবে কেন ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাদ করা হচ্ছে না- এমনটি জানতে চাইলে র্যাব বলছে, অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি ওই ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, আমরা এখনো তদন্তের কূলকিনারা করতে পারিনি। র্যাব অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে। কেবল সাগর-রুনি হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারিনি, আমরা হতাশ।
কেন এতো সময়েও শনাক্ত করতে পারেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, নানা কারণে এটা সম্ভব হয়নি। এটা অন্য বিষয়। আদালত অনুমতি দিলেই আমরা নতুন পথে আগাবো। দুইজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দরকার।
ঘটনার তদন্ত সংশিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রুনি নিজেই তার মোবাইল ফোন দিয়ে তার নিকটতম একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কললিস্টের তথ্য অনুযায়ী ওই কর্মকর্তা জানান, রুনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেই মারা যান।
তবে গোয়েন্দারা জানান, ঘটনার দিন সকালে ওই ফ্লাটে প্রথম প্রবেশ করেছেন রুনির মা নূরুন নাহার মির্জা। তার বক্তব্য আর মোবাইল ফোনের কললিস্টের সঙ্গে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এ কারণে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা কিভাবে ফ্লাট থেকে চলে গেলো। এটা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের জন্য এটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্টে সাগর-রুনি খুন হন। সে সময় বাসায় ছিল শুধু তাদের একমাত্র শিশুপুত্র মেঘ। সংবাদ পেয়ে রুনির মা নূরুন নাহার মির্জা ও ভাই রোমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভেতর থেকে বাসার দরজা এই সাংবাদিক দম্পতির শিশুপুত্র মেঘই খুলে দিয়েছিল।