যেসব সিনেমার উত্তেজনায় মানুষ মরেছে

সিনেমা মানুষের মনে আনন্দ-বিনোদন সঞ্চার করে। সিনেমায় চরিত্রের আবেগের বর্শবর্তী হয়ে উত্তেজনা ও ভয়ে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে কখনো কখনো মানুষ মারাও গেছে। আবার হলে ঝগড়া করেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এমন সব সিনেমার বিষয় আলোচনা করা হল-

 

লোন সারভাইভার (Lone Survivor)-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিল দলের এক তালিবান নেতাকে ধরার বাস্তব জীবনের গল্পকে নিয়ে নির্মিত হওয়া সিনেমা দেখতে দেখতে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ফ্লোরিডার এক হলে সিনেমাটা দেখছিল ছাদ ওলসান নামের এক ব্যক্তি। তার পিছনের সারিতেই বসলেন ৭১ বছরের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিস অফিসার, নাম কার্টিস রাভিস। ওলসান সিনেমাটি দেখতে দেখতে মোবাইলে একজনকে টেক্সট করছিলেন। তাতে আপত্তি জানান এই অবসরপ্রাপ্ত পুলিস অফিসার। দুজনের ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। কিছুক্ষণ বাদে পকেট থেকে বন্দুক বের করে ওলসানকে হত্যা করেন সেই পুলিস অফিসার। অথচ সিনেমা হলে একটা সময় সেই পুলিস অফিসারটিও এসএমএস করেছিলেন।
 
IMG0২) দ্য ক্রিপিং আননোন (The Creeping Unknown)- ভয়ের সিনেমা। নয় বছরের স্টুয়ার্ট কোহান নামের এক বালক সিনেমাটা দেখে এতটা ভয় পায় যে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে সিনেমা হলেই মারা যায়।
 
IMG1৩) দ্য টোয়ালাইট সাগা-একল্পিস (The Twilight Saga: Eclipse)- হলে সিনেমাটা দেখতে দেখতে ও খুব কাঁদছিল এক তরুণ। গার্লফ্রেন্ড সেদিনই ওর সঙ্গে ব্রেকআপ করে। সিনেমাটির গল্পচিত্রের রূপায়নে আবেগপ্রবণ হয়ে খুবই ব্যথিত হয় ওই তরুণ। এ সময় হলেই ও খুব মদ্যপান করছিল। শেষ অবধি সিনেমার মাঝপথেই তরুন ড্যামিয়েন অ্যানথনি সিমেথি মারা যায়। 
 
IMG2৪) গ্র্যান্ড মস্তি (Grand Masti)--না শুধু বিদেশের সিনেমা নয় বলিউডের সিনেমা দেখতে দেখতেও মানুষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ইন্দ্র কুমারের এই সেক্স কমেডি সিনেমা দেখতে গিয়ে হাসতে হাসতে জ্ঞান হারান মঙ্গেস ভোগাল নামে এক ব্যক্তি। তত্‍ক্ষণাত্‍ তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা হাসপাতালে আনার আগেই স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
 
IMG3৫) ব্ল্যাক সোয়ান Black Swan-- সিনেমা হলে পপর্কন নিয়ে মারামারি। মাঝপথে মৃত্যু। ২৭ বছরের এক নারী মেরে ফেলে ৪২ বছরের এক নারীকে। কারণ খুব জোর শব্দ করে পপকর্ন খাচ্ছিলেন। যার জন্য নাকি সিনেমাটা দেখায় তার ব্যাঘাত ঘটছিল।
 
IMG4৬) অবতার--৪২ বছরের তাইওয়ানের কুয়ো নামের এক ভদ্রলোকের ভারী পছন্দের সিনেমা এটা। দ্বিতীয়বার সিনেমাটা হলে দেখতে গিয়ে উত্তেজনায় উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগে কোনোরকমে হল থেকে বেরিয়ে আসেন। কিছুটা ভাল লাগলে ফের সিনেমা হলে ঢোকেন। বেরিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান সেই ভদ্রলোক। কারণ অবতার দেখে তিনি দারুণরকম উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন।
 
এছাড়াও ডার্ক নাইট রাইজেস, অ্যা ফিশ কলড ওয়ান্ডা, দ্য প্যাশান অফ দ্য ক্রিস্ট--নামের তিনটি সিনেমা দেখতে দেখতে সিনেমা হলে উত্তেজনায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।