রাত পোহালেই পহেলা ফাল্গুন। কিন্তু তার আগেই যেন মেলায় লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। সে হাওয়ায় মাতাল বইপ্রেমীরা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আজকের ‘শিশুপ্রহর’ নিয়ে আগ্রহের পালে হাওয়া লেগেছে গতকাল বৃহষ্পতিবার থেকেই। এমন নয় যে গতকাল মেলায় শিশুরা আসেনি। কিন্তু আজ আবার আসবে বলে অনেকেই আগে থেকেই বাবা-মাকে রাজি করিয়ে রেখেছে। এমনি একজন সাদমান কবির শান্ত। খিলগাঁও সরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মেলায় এসেছে বাবার সাথে। হাতভর্তি বই তার। অনেকটা ‘পড়পড়’ অবস্থা। তারপরও বাবাকে কোন বই ধরতে দিচ্ছে না। সাদমান জানালো, ভূতের বই তার পছন্দ। বাবা যখন তাকে গল্পের বই পড়ে শোনায় তখন তার বেশি ভালো লাগে।
বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার মোট চারদিন শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে। এর আগে গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার ছিল শিশুপ্রহর। আজ শুক্রবার ছাড়াও আগামি ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রকাশকরা দাবি জানালেও শিশুপ্রহরের সময় বাড়ায়নি একাডেমি কর্তৃপক্ষ। আগের মতোই বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকছে শিশুপ্রহর।
শিশুদের জন্য আজ বইমেলায় সিসিমপুরের অনুষ্ঠানে থাকছে নতুন চমক । ছোট্ট সোনামণিদের জন্য সাজানো হয়েছে ‘নতুন এক ভুবন’। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘শিশুপ্রহরে’ আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে সিসিমপুর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সোহরাওয়ার্দীর শিশুচত্বরে আর বাংলা একাডেমির অডিটরিয়ামে শিশুদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে বইমেলায় এসেছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। গতকালই তিনি মেলায় প্রথম এলেন। মেলা প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এবারের বইমেলা অনেক পরিচ্ছন্ন। আমাদের বইমেলা একুশের চেতনাকে ধারণ করে। এমন চেতনাজাত বইমেলা বিশ্বের কোথাও হয় না।
সিলেট থেকে হুইলচেয়ারে মেলায়:শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি ৭২ বছরের বইপ্রেমী ফয়জুন জান্নাতকে। চলাফেরায় হুইলচেয়ারই যার একমাত্র ভরসা। সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে তিনি এসেছেন বইমেলায়। উপলক্ষ আরেকটি ছিল, তা হলো ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুক্তার আহমেদের একটি পুরস্কারপ্রাপ্তি অনুষ্ঠান। কিন্তু সিলেট থেকে রওনা হওয়ার আগেই ছেলেকে বলেছিলেন, ঢাকায় যাচ্ছি যখন তখন বইমেলায় কিন্তু যাবই। কথা রেখেছেন ছেলে। নিয়ে এসেছেন বইমেলায়। ফয়জুন জান্নাত বলেন, আমি বই পড়তে ভালোবাসি। তাই ঢাকায় এসে বইমেলায় না এসে পারলাম না। এর আগে কখনো বইমেলায় আসেননি জানিয়ে এই বইপ্রেমী বলেন, আগামীতে আবারও বইমেলায় আসার ইচ্ছে রয়েছে।
১৩১ নতুন বই :গতকাল মেলায় মোট ১৩১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অন্যপ্রকাশ থেকে শওকত আলীর ‘সেরা দশ গল্প’, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘সেরা দশ গল্প’, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘স্বপ্নের সীমানায় পারাপার’, আনিসুল হকের ‘গুড্ডুবুড়ার হাসির কান্ড’, গুড্ডুবুড়ার দারুণ কীর্তি’, নালন্দা থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের ‘ষড়ঋতুর ছড়া কবিতা ও গান’, আদর্শ এনেছে লোপা হোসেইনের ‘তোমার অপেক্ষায়’, গ্রন্থকুটির এনেছে অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর ‘কিডনির যত্ন’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে মোশতাক আহমেদের ‘রিবিট ও কালো মানুষ’, অন্বেষা এনেছে সুমন্ত আসলামের ‘পা কাটা পাপপু’, আহম্মদ পাবলিশিং হাউস এনেছে সাযযাদ কাদিরের ‘জানা অজানা বাংলা’, শ্রাবণ এনেছে হেনরী স্বপনের ‘ছোটগল্পের ক্রান্তিকাল ও অন্যান্য’ এবং অনন্যা প্রকাশনী এনেছে হানিফ সংকেতের নতুন বই ‘বিশেষ সবিশেষ অবিশেষ’।
মূলমঞ্চের আয়োজন:গতকাল গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা : অতীত থেকে বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক বদিউদ্দিন নাজির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, ড. জালাল আহমেদ ও খান মাহবুব। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন’এর শিল্পীবৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ, কল্যাণী ঘোষ, বুলবুল মহলানবীশ, মাহমুদ সেলিম প্রমুখ।