নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে বাঘকে সুরক্ষা করতে হবে: ঢাবি ভিসি

 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, বাঘ বাংলাদেশের প্রতীক। দেশের ক্রিকেটাররা যখন খেলতে থাকে, তখন তাদের সাফল্যে আমরা টাইগার-টাইগার বলে স্লোগান দিতে থাকি। কেন দিতে থাকি? কারণ বাঘ আমাদের প্রতীক। সেই প্রতীক যদি না থাকে, তাহলে আমাদের অস্থিত্ব কিভাবে বজায় রাখব। আমাদের জৈবিক, জাতিগত এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য বাঘকে সুরক্ষা করা আমাদের এখন নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
 
শুক্রবার দিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ সুরক্ষা করব’ স্লোগান নিয়ে বাঘ সুরক্ষার সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাঘ ও সুন্দরবন বিষয়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, খ্যাতনামা শিল্পীদের চিত্রাঙ্কন ও প্রদর্শনী এবং লোকসংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
 
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পৃথিবীর ১৩টি দেশের জঙ্গলে আজ আমরা বাঘের অস্তিত্ব পাই। পৃথিবীর প্রায় দুইশ’র বেশী দেশের মধ্যে এ সংখ্যা খুবই নগন্যা, যা চিন্তার বাইরে। একটা সময় যেখানে একলক্ষ বাঘ ছিল বিশ্বে, এখন তা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার দুইশ’র মতো বাঘ। তাহলে বুঝা যায় কত দ্রুত বাঘ বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে এ পৃথিবী থেকে। সেটাতো হতে দেয়া যায় না। আজকে আমরা একবিংশ শতাব্দিতে এসে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় আন্দোলন-সংগ্রাম করে চলেছি। জীব জগতের যতপ্রাণী আছে তা সুরক্ষা করতে চেষ্টা করছি আমরা।
 
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির বাঘ প্রকল্পের মাধ্যমে বন বিভাগের নেতৃত্বে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বৃহস্পতিবার থেকে দুই বছরব্যাপী রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এটি বাস্তবায়ন করছে বন্য প্রাণীবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ড টিম। এ কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশে ১০০টি স্থানে ঘুরবে বাঘের আকৃতিতে তৈরি বাস ‘টাইগার ক্যারাভ্যান’। বাঘ, হরিণ ও কুমিরের ভাস্কর্য এবং বিশাল আকৃতির চিত্রকর্মের সাহায্যে ওই ক্যারাভ্যানে সুন্দরবনের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ক্যারাভানটি বাঘ সুরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী ও পথনাটকের উপস্থাপন করবে। বাঘ সুরক্ষার ওই প্রচারাভিযানে সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, গাজী টিভি, দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম, এবিসি রেডিও ও কিশোর আলো।