অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আজ মানুষের ঢল নেমেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই পুরো মেলা চত্বর লোকে লোকারণ্য। শনিবার ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। সে আভাস মিলছে একদিন আগে থেকেই।
পাঠক-দর্শনার্থী বিশেষ করে নারীদের সাজ পোশাকে বসন্তের ছোঁয়া লক্ষ্য করা গেছে। এতে মেলা প্রাঙ্গণসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, শিল্পকলা একাডেমি, শহীদ মিনারসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা আজ ছিল লোকারণ্য।
মেলার দু’অংশে প্রবেশের ৬টি গেটেই দেখা গেছে মানুষের দীর্ঘ লাইন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের মেলায় প্রবেশ করতে হয়েছে। তবে প্রকাশক ও বিক্রেতারা এতে বেজায় খুশি।
মেলার ভিতরেও প্রত্যেক স্টলের সামনে ক্রেতা ও পাঠকের জটলা দেখা গেছে বেশ। বইয়ের কাটতি বেশি থাকায় অনেক স্টলে বিক্রেতা কর্মীর সংখ্যাও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি।
এ প্রসঙ্গে এ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সত্ত্বাধিকারী জাকির হুসাইন বলেন, আজ স্টলের সামনে এত ভিড় যে, ৮ জন বিক্রয়কর্মীসহ মোট ১১ জন কাজ করেও চাহিবা মাত্র পাঠকের হাতে বই তুলে দিতে পারছি না। এবারের মেলার এই ১২ দিনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আজই।
শিশু প্রহর
অভিভাবকসহ শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্যে বই কেনার সুবিধার্থে আজও মেলায় শিশুপ্রহর ছিল। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিশুরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করে বই কিনেছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাংলা একাডেমি আবার শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে।
আজকের শিশুপ্রহরে শিশুদের জন্য সিসিমপুরের অনুষ্ঠানমালায় নতুন চমক রাখা হয়েছিল। টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ শিক্ষামূলক এ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোমলমতি সোনামনিদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে ‘নতুন এক ভুবন’ সাজানো হয়েছিল।
এ অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে সম্পন্ন হয়। সোহরাওয়ার্দীর শিশুচত্বরে সাধারণ অনুষ্ঠানমালা আর বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে ছিল বিশেষ আয়োজন। মিলনায়তনে সিসিমপুরের প্রকাশিত বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন, লাইভ পাপেট শো এবং তাদের সঙ্গে বাচ্চাদের কথপোকথন, টুকটুকি, হালুম ও ইকরিসহ সিসিমপুরের ছয়টি চরিত্রের বাস্তব উপস্থিতি, সঙ্গে আরও নানা আয়োজন ছিল।
নতুন বই
আজ মেলায় নতুন বই এসেছে ২৮০টি। এর মধ্যে গল্প ৪৫টি, উপন্যাস ৪৩টি ও কবিতা ৮৩টি উল্লেখযোগ্য।
মূলমঞ্চ
আজ সকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার অতিথি ছিলেন। প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে নজরুল চর্চা : অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহীত উল আলম, কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ এবং কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নজরুল চর্চা নতুন মাত্রা লাভ করেছে। বিশেষ করে নজরুলের অমর রচনাকর্ম ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি, ফারসি এমনকি স্প্যানিশ-পর্তুগিজ ভাষায়ও অনূদিত হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে বাংলার নজরুল পৌছে যাবেন সারা বিশ্বে।