‘‘দেশে চোরাচালান উদঘাটনে শুল্ক বিভাগ সাফল্য দেখিয়েছে। সম্প্রতি স্বর্ণ, কোকেন, অবৈধ মুদ্রাসহ চোরাচালানের বেশকিছু বড় চালান আটক করতে সমর্থ হয়েছেন। তবে যে পরিমান চোরাচালান ধরা হয় তার কয়েকগুণ নানা উপায়ে পার হয়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তারা মনে করছেন, এ পর্যন্ত যা ধরা পড়ছে তা মোট চোরাচালানের ২০ শতাংশ মাত্র। আর ৮০ শতাংশই নানা উপায়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।’’
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে চোরাচালান বিষয়ক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, চোরাচালান যা ধরা হয় তা গাছের পাতা মাত্র। একটা পাতা ঝরে যায় আর দশটি পাতা গজায়। গাছের গোড়ায় কেন যাওয়া হয় না?
অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমান্তহীন দেশ বহুদিন ধরে আমাদের স্বপ্ন হলেও তা কার্যত কঠিন। কেননা চোরাচালানের মাধ্যমে সন্ত্রাস অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। এ জন্য পরিস্থিতি মোকাবলায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। স্বর্ণ, অর্থ বা কোকেন এর এক একটি খাতের উদাহরণ মাত্র। মাঝে মাঝে আমরা শুল্ক বাধার কথা বলি। কিন্তু কিছু শুল্ক রাখতে হয়। সন্ত্রাস বা অপরাধ আটকাতেই এ ব্যবস্থা নিতে হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশ চোরাচালানের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ৩ হাজার কেজি স্বর্ণ আটকে তৃপ্তি পাওয়ার কিছু নেই। কী পরিমান স্বর্ণ পাচার হচ্ছে, এটি তার একটি ধারণা মাত্র। অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানিতে জঙ্গি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ রয়েছে বলেও মত দেয়া হয়। বলা হয়, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে গরু চোরাচালান ঘিরে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। এতে জঙ্গীগোষ্ঠীরও বিনিয়োগ রয়েছে। এ ধরণের চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবসায়ীসব সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যুক্ত করার মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে শুল্ক কাঠামোও পরিবর্তন করতে হবে।