লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা সিরীয় বিদ্রোহীদের

সরকারের পক্ষ হয়ে রাশিয়ার বোমা হামলা বন্ধ না হলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সিরীয় বিদ্রোহীরা। এদিকে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পুরো দেশ পুনর্দখল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। নইলে তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর আসাদ ‘কল্পনার’ মধ্যে আছেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে মন্তব্য করা হয়।
 
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাত্কারে আসাদ বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক শক্তিদের সম্পৃক্ততার কারণে বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এতে করে অপরপক্ষকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া শান্তি আলোচনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মানে এই নয় যে, ‘আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ রাখব’। বরং তিনি তুর্কি সীমান্ত থেকে বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করার এবং পুরো দেশ দখল করে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেছেন, আসাদ যদি মনে করে থাকেন, তিনি বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কাছ থেকে পুরোটা পুনর্দখল করে নিতে পারবেন, তাহলে তিনি ভ্রমের মধ্যে রয়েছেন।
 
এদিকে দেশটিতে সপ্তাহজুড়ে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির সাময়িক বিরতির লক্ষ্যে বিশ্বশক্তি যে চুক্তির কথা বলছে সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিদ্রোহী গ্রুপগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট বাশার-আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে হটানোর দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের এ বিবৃতির আগে প্রেসিডেন্ট বাশার বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ‘পুরো দেশ’ পুনরধিকার করার কথা জানান। সিরিয়ার তিনটি বিদ্রোহী গ্রুপ যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়াকে নিয়ে সবসময়ই আমাদের ভিতর সন্দেহ রয়েছে। রক্ষণশীল গ্রুপ আহরার আল-শাম জানিয়েছে, সরকারকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, বেসামরিক লোকজনের নিরাপদ চলাচলের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে হবে, বন্দিদের মুক্ত করা এবং দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দিতে হবে। না হলে লড়াই বন্ধ করা হবে না। সাতটি ভিন্ন দল নিয়ে গঠিত ফায়লাক আল-শাম জানিয়েছে, আসাদকে সরানো না পর্যন্ত তারা অস্ত্রত্যাগ করবে না।