শিবগঞ্জের ২০০ বছরেরও বেশি পুরাতন তর্ত্তিপুর ঘাটে মাঘী বান্নী গঙ্গাস্মান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবািবর এই দিনটি উপলক্ষে তর্ত্তিপুর ঘাটে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন জমায়েত হয়।
সূত্রমতে, বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র দিন এটি। চন্দ্র মাসের তারিখ হিসাবে প্রতি বছর রাজশাহী অঞ্চলের সকল বয়সের হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার তর্ত্তিপুর নামক স্থানে পৌরণিক জাহ্নুমুনির আশ্রমের কাছে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন।
বয়বৃদ্ধদের নিকট থেকে জানা যায়, এই গঙ্গাস্নান অধিকাংশ বছরই মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত হয় বলে একে মাঘী বান্নী স্নান বলে। কিন্তু চাঁদের উপর নির্ভর করে কোন কোন বছর ফাল্গুন মাসেও গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রাজশাহী অঞ্চলের নাটোর, নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরুষ-মহিলারা বাস, মিনিবাস, মাইক্রো, মিশুক, রিক্সাসহ বিভিন্ন প্রকার যানবহন যোগে দূরদূরান্ত থেকে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য পূর্বদিন থেকেই পৌরণিক জাহ্নুমুনির আশ্রমে আসতে শুরু করে। রোববার দুপুর পর্যন্ত তীর্থযাত্রীদের আসা অব্যাহত ছিল।
সকালে স্থানীয় গঙ্গায়স্নান পর্ব শেষ করে বিভিন্ন ধরণের ভুরি ভোজ করে থাকে। এই ভুরি ভোজের মধ্যে স্থান পায়- মূলত: শিবগঞ্জের বিখ্যাত চমচমসহ অন্যান্য মিষ্টান্ন দ্রব্য, রাজারামপুর ও নসিপুরের দই, রহনপুরের মুড়ি ও চিড়া এবং ভোলাহাটের সাগর কলা। প্রায় মহিলারাই বাড়ি ফেরার সময় নানা ধরনের মাটির পাত্রে সযত্নে গঙ্গার পবিত্র জল নিয়ে যায়। অনুষ্ঠানে আগত আনুমানিক ৮৯ বছর বয়স্কা শান্তি দেবী নামে এক বৃদ্ধার কাছ থেকে জানা যায়-সংগৃহীত এই পবিত্র জল সমগ্র বছর বাড়িতে রেখে বিভিন্ন পূজা পার্বণে ব্যবহার করে থাকে।