ছোটবেলার স্কুলে সহায়তা করুন :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও প্রাক্তন ছাত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা বিত্তবান বা সমাজে একটু প্রতিষ্ঠিত তারা নিজ স্কুলে যেখানে তারা লেখাপড়া করেছেন সেখানে একটা মল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বা রুমের সামগ্রী উপহার দেবেন।
 
গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কন্টেন্ট ইন্টার অ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে রূপান্তর শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুতকৃত ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
প্রধানমন্ত্রী কোমলমতি শিশুদের ভালো ফলাফলের আশায় পড়ার জন্য চাপ না দিয়ে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুলতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার নামে মা-বাবা তথা অভিভাবকদের ভালো ফলাফলের জন্য নিজস্ব প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ভালো ফলের জন্য শিশু বয়সে চাপ দিলে আপাত ভালো হলেও পরে ভালো হয় না।’ তিনি ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতায় বলেন, ‘আমি বা রেহানা কখনও আমাদের বাচ্চাদের পড়ার জন্য চাপ দেইনি। পড়ার জন্য চাপাচাপি করতে হবে কেন, তারা নিজ আগ্রহেই পড়বে।’ আজকের শিশুদের বিশ্বমানের অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা অনেক মেধাবী। তারা প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। আমার ছেলের কাছ থেকে এখনও আমি শিখছি, শিক্ষায় কোনো লজ্জা নেই।
 
আগামী দিনের শিক্ষক বাচ্চাদের কাছ থেকে ভালো শেখা যায়, তাদের কাছে বিশ্ব এখন উন্মুক্ত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের পড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই যে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করবে তা কিন্তু নয়। তাই তাদের পড়ার জন্য বেশি চাপ দেয়া যাবে না। খেলা আর আনন্দের ছলে তাদের পড়াতে হবে। এতে পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুর মনোবলও বাড়বে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ডিজিটাল ক্লাস রুম করে দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬৩ হাজার ৬০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিতে অন্তত একটি করে হলেও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দেবো। তিনি বলেন, আগে কম্পিউটার কিনতে অনেক টাকা লাগত। পার্টির জন্য একটা কম্পিউটার কিনেছিলাম, ধার করে ৩ লাখ টাকায়, অ্যাপল কম্পিউটার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব আমরা সহজ করে দিয়েছি। এখন একটা ল্যাপটপ কিনতে বেশি টাকা লাগে না।
 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল ম্যাকগ্রা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন খালিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষয়িত্রী ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাসের পাঠ্যসূচি হিসাবে শব্দ, ছবি এবং অ্যানিমেশন সমন্বয়ে তৈরি ডিজিটাল কন্টেন্টের সঙ্গে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন। যার মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাভাষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা, ছড়া, ইংরেজি বিষয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রভৃতি। এ ছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্টের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্রও প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল সিডির মোড়ক উন্মোচন এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট সংবলিত ’ট্যাব’-এ আঙুলের চাপ দিয়ে ডিজিটাল প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যাশনাল টেক্সট অ্যান্ড কারিকুলাম বোর্ড (এনসিটিবি) সংযোজিত ডিজিটাল কন্টেন্ট শিক্ষা সামগ্রীর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন।