আওয়ামী লীগের ১৫ জেলা কমিটি গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আওয়ামী লীগের ১৫টি সাংগঠনিক জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার নেতারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রে। স্বজনপ্রীতি, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে এমন অভিযোগের পাহাড় জমা পড়েছে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এছাড়া কয়েকটি জেলায় একাধিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমাও দেয়া হয়েছে।
 
গত এক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই ধানমন্ডিস্থ দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে লিখিত এসব অভিযোগ জমা দেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগগুলো উত্থাপন করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, কয়েকটি অভিযোগ ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডের হাতে গেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
 
জানা গেছে, আগামী ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের ৭৫ সাংগঠনিক জেলা শাখার সম্মেলন এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে দিচ্ছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার নতুন সভাপতি এবং সাধারণকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়েই মূলত তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
 
জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ইতিমধ্যে অনেকটা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কয়েকটি স্থানে পাল্টাপাল্টি পার্টি অফিস তালা লাগানোর ঘটনাও ঘটছে। সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, বরগুনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহসহ ১৫ জেলায় দ্বন্দ্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শুধু এই ১৫টি নয়, বেশিরভাগ জেলার চিত্র প্রায় একই।
 
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতি হয়েছেন মনসুর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হন নজরুল ইসলাম। দু’জনই দক্ষ সংগঠক হিসেবে দাবি করে আসছেন। সাবেক সভাপতিসহ আরেক অংশ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে অভিযোগ করছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া দ্বন্দ্বের কারণে একাধিক ধারায় বিভক্ত নেতারা একেকজন একেক স্থানে বসছেন।
 
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ একাধিক ধারায় বিভক্ত। এ জেলা শাখার সম্মেলন হয় গত বছরের ২৫ নভেম্বর। সম্মেলনে ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা সদর উদ্দিন খানকে সভাপতি ও আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীকে একই পদে রেখে কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে কাউন্সিলে কমিটি ঘোষণার আগেই শহরের আড়ুয়াপাড়ায় আওয়ামী লীগের পুরাতন জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি পৌর মেয়র আনোয়ার আলীকে সভাপতি ও কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রউফকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সদর উদ্দিন খানের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছে। অন্যদিকে আনোয়ার আলীও নিজেকে জেলা কমিটির সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। উভয় পক্ষই কেন্দ্রে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছে। তবে হাইকমান্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি।
 
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে জেলা সহ-সভাপতি সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের রাজনৈতিক বিরোধ আগে থেকেই। বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখা হয় আহাদ আলীকে। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক কোরাইশীর মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্যে। দবিরুল ইসলাম জেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চান। সঙ্গে আছেন ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন। ওই জেলার সভাপতিও বলতে গেলে তিনি, সাধারণ সম্পাদকও। সাদেক কোরাইশীকে ছাড়াই সব সিদ্ধান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়। নামমাত্র পদে রয়েছেন কোরাইশী।
 
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সঙ্গে জেলার সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা এবং ময়মনসিংহ পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটুর দ্বন্দ্ব ব্যাপক। কমিটি গঠন নিয়ে তাদের মধ্যেও চলছে ঠান্ডা লড়াই।
 
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, তৃণমূল থেকে যেসব অভিযোগ আসছে দলীয় ফোরামের সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সামনে তা তুলে ধরা হবে। এরপর এসব সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ ব্যাপারে বলেন, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেবে দল।