কলড্রপে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না গ্রাহক

 
নির্দেশনার প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও কলড্রপে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনার আশায় বসে আছেন। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলছেন, মোবাইল অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন তাদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
 
গত ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে মোবাইল অপারেটরদের চিঠি দিয়ে প্রতি কল ড্রপে এক মিনিট কল ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর একদিন পর গত ২১ জানুয়ারি অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বিটিআরসিতে এক চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা স্থগিত করে আলোচনার অনুরোধ করেন। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, আইটিইউ’র নির্দেশনা অনুযায়ি ৩ শতাংশের বেশী কল ড্রপ হলে গ্রাহককে কল ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন একটি ম্যাসেজের মাধ্যমে কতটি কল ড্রপ হল এবং গ্রাহক কতটি কল ফেরত পেলেন তা জানাতেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এই নির্দেশনার পর অর্ধমাসের বেশি পার হলেও কাজ শুরু হয়নি।
 
অ্যামটব মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকে নির্দেশনা দিয়েছেন, এটা সত্য। কিন্তু এ ব্যাপারে বিটিআরসি থেকে আমরা এখনো কোন চিঠি পাইনি। ফলে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আমরা বিটিআরসির নির্দেশনা পেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
 
সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন না হওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি নিজেই যেখানে তাদের বলে দিয়েছি আইটিইউ’র নির্দেশনা ফলো করতে, সেখানে টালবাহানা কেন। সেদিন তো তারা বলতে পারত নতুন করে নির্দেশনা দরকার। কিন্তু তারা তা বলেনি। এখন এতদিন পর এসে কেন এই ধরনের প্রস্তাব? একটা কথা অপারেটরদের মনে রাখতে হবে, গ্রাহকদের কল ড্রপ হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। এক্ষেত্রে টালবাহানা করে রেহাই পাওয়া যাবে না। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলব।’
 

গ্রাহকদের কাছ থেকে কলড্রপ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. শাহজাহান মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, শুধু কলড্রপ নয়, বিটিআরসি ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একটি কল সেন্টার করা হচ্ছে। গ্রাহকরা সেই কল সেন্টারে শর্ট কোড নম্বরে বিনা পয়সায় অভিযোগ জানাতে পারবেন।