প্রচণ্ড বৈরি পরিবেশের কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি অবহিত করে মামলা থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান। পরে প্রধান বিচারপতি মামলার কার্যক্রম থেকে নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে দেন।
পরে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমি মীর কাসেম আলীর পক্ষে আপিল বিভাগের মামলা শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি হিসেবে এই অধিকার আমার রয়েছে। এটি অসাংবিধানিক ও অনৈতিক নয়।
তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর আমি হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছি এবং ১৩ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত আপিল বিভাগে মামলা শুনানিতে অংশগ্রহণ করছি। ইতোমধ্যে অন্তত দুইটি মামলায় একই মক্কেলের পক্ষে ও তিনটি মামলায় অপর পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছি। উক্ত মামলাগুলোর শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আমার মামলা পরিচালনা করার বিষয়ে বৈধতা বা নৈতিকতা নিয়ে আপত্তি করেননি। কিন্তু মীর কাসেম আলীর মামলা পরিচালনা করতে গেলেই তিনি আমার বৈধতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
তিনি বলেন, আইন ও সংবিধান সম্মতভাবে মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানির পক্ষে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈরি পরিবেশের কারণে নিজেকে মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
এদিকে তৃতীয় দিনের মতো জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানির যুক্তি উপস্থাপন চলছে। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান শুনানি করছেন।