রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে মৃত নবজাতক দিয়ে জীবিত নবজাতক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুরান থানা রোডের ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’র (হাসপাতাল) এর বিরুদ্ধে অভিযোগটি ওঠে।
মঙ্গলবার আনুমানিক সকালে ঘটনা জানা গেছে।
নবজাতকের বাবা শামসুল ইসলাম বুলু অভিযোগ করে বলেন, আমি গরীব মানুষ। হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরা আমার ছেলে বাচ্চাটারে লুকায় ফালাইছে। মরা একটা মেয়ে বাচ্চাকে বলে এটা আপনার বাচ্চা। অথচ এর আগে কয়েকবার আমার বৌ’র আল্ট্রাসনোগ্রাম করাইলে প্রত্যেকবার ডাক্তার বলছে আমার ছেলে সন্তান হবে।
আমাদের বাসা মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায়। সকালে স্ত্রী পারভীনের প্রসব ব্যথা উঠলে দ্রুত এ হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে ভেতর থেকে এক নার্স এসে আমাকে জানায় আমার ছেলে সন্তান হয়েছে। আমার সঙ্গে দু’জন আত্মীয় ছিলেন। তারা সার্বক্ষণিক অপারেশন থিয়েটারের বাইরে ছিলেন।
এদিকে কয়েকজন নার্স এসে আমাকে বলে কাগজে লেখা ওষুধগুলো নিয়ে আসেন। পরে তাদের মধ্যে এক নার্স আমার ওই দুই আত্মীয়কে বলে, আপনারা আমার সঙ্গে আসেন।
কিছুক্ষণ পর আমি ওষুধ নিয়ে আসলে অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে আমাকে জানানো হয়, আপনার মরা মেয়ে বাচ্চা হইছে। আমাদের কিছু করার নাই। যোগ করেন ভুক্তভোগী বুলু।
বুলু জানান, তিনি বছিলা এলাকায় লেপ-তোষকের ব্যবসা করেন। স্কুল পড়ুয়া ৯ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে তার।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, এ বিষয়ে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি, আরো খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।