বইমেলায় স্টল বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বইমেলায় প্রকাশনা সংস্থার স্টল বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।
 
এর একদিন আগেই ব-দ্বীপ প্রকাশনের স্টল বন্ধ করা হয় এবং সংস্থাটির কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানববন্ধনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।
 
মানববন্ধনের সময় সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতা লাকী আক্তার বলেন, ‘আপনারা অভিজিতের হত্যাকারীকে ধরতে পারেন না, আপনারা খুনিদের স্ট্যাটাস পড়ে মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেফতার করতে পারেন।’
 
 লাকী বলেন, ‘ওই বইটি একটি সংকলন মাত্র। সেখানে শামসুজ্জোহা মানিকের কোনো লেখা নেই। বইটি না পড়েই বাংলা একাডেমি আদেশ দিয়েছে বই জব্দ ও লেখককে গ্রেফতার করতে। শুধু এতেই তারা ক্ষান্ত হননি, শামসুজ্জোহা মানিককে ক্রিমিনালের মতো হাতে হাতকড়া পরিয়েছে, তাকে রিমান্ডে নিয়েছে।’
 
এবারের বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনের মালিক শামসুজ্জোহা মানিক সম্পাদিত সঙ্কলন গ্রন্থ ‘ইসলাম বিতর্ক’র বিরুদ্ধেও উগ্রবাদীরা ইন্টারনেটে লেখালেখিতে সরব হয়েছিল। এরপর গত সোমবার রাতে পুলিশ মেলায় ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে প্রকাশক শামসুজ্জোহা, মুদ্রাকর তসলিমউদ্দিন কাজল এবং ব-দ্বীপের বিপণন শাখার প্রধান শামসুল আলমকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ।
 
লেখালেখি নিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হুমকির মধ্যে থাকা অভিজিৎ রায় গত বছর মেলা চলার সময় টিএসসি এলাকায় খুন হয়েছিলেন। তার আগে-পরে আরও কয়েকজন একইভাবে খুন হন, লেখালেখির কারণে উগ্রবাদীরা তাদের হত্যা করে বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে।
 
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘মানবতার মুক্তি চাই, মুক্ত চিন্তার বিকল্প নাই’, ‘মুক্তমনা লেখক হত্যার বিচার চাই’, ‘মুক্তচিন্তার সংগ্রাম চলবেই’, ‘লেখকের হাতে হাতকড়া কেন? অবরুদ্ধ মুক্তবুদ্ধি জেগে ওঠো, রুখে দাঁড়াও’, ‘বইমেলায় পুলিশি আগ্রাসন রুখে দাঁড়াও’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
 
শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আমরা জানতে পারি, ব-দ্বীপ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইটিতে ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।’ বইটিতে মহানবী (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দও পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন।