ভারতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা

 
ভারতের জওহরলাল নেহেরু (জেএনইউ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা কানাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ এনে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার কথা রয়েছে তার সমর্থকদের। রাজধানী দিল্লিতে এ বিক্ষোভ, মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বুধবার কানাইয়ার ওপর হামলার ঘটনায় বিরোধী গ্রুপগুলো  নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া এ হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দেশের অন্যান্য স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। 
 
ছাত্রনেতা কানাইয়াকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে গ্রেফতারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য এবং ছাত্রদের মধ্যে অতিমাত্রায় ক্ষোভের স্ফূরণ দেখা গেছে বলে গণমাধ্যগুলো জানিয়েছে। এ নিয়ে অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভে ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় জনতা দলের জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনজন বলেন, যে পদ্ধতিতে ইস্যুটি পরিচালনা করা হচ্ছে তা নিয়ে আমরা মধ্যে নিরাশ। এদিকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। একই সময়ে কলকাতার একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ একপর্যায় সহিংসতায় রূপ নেয়। ছাত্রদের এ বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন শামিল হয়েছে। বিরোধী গ্রুপগুলো সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা এ বিক্ষোভকে সমর্থন করেনি। বরং ‘জাতীয়তাবাদ বিরোধী’ কোনকিছু পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
 
ওদিকে সুপ্রিম কোর্ট চত্ত্বরে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত এবং কানাইয়ার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দিল্লির পুলিশ কমিশনার বিএস বাসসিকে সরাসরি দায়ী করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশ কমিশনারকে তার দফতরের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে শুক্রবারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব নিজেদের হাতে চেয়ে টুইট করেন, ‘‘দিল্লির আইন-শৃঙ্খলার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আমি খুব দ্রুত এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলব।’’ এছাড়া এ মামলা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
 
পাটিয়ালা কোর্ট ২ মার্চ পর্যন্ত ছাত্রনেতা কানহাইয়াকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে তার শুনানি করা হবে। বুধবার কানাইয়াকে আদালত চত্ত্বরে নেওয়ার পর একদল আইনজীবী তার ওপর হামলে পড়ে। তার মুখ লক্ষ্য করে ঘুষি মারা হয়। পাথর ছোড়া হয় মাথা লক্ষ্য করে। তাকে লাথি মারার চেষ্টা করেন অনেকে। এতে তিনি বেশ আহত হন।  এসময় বেশকিছু সাংবাদিকও আহত হন। ভেঙে দেওয়া হয় ক্যামেরা। এ ঘটনায় মানুষের ভেতর ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ২০১৩ সালে মোহাম্মদ আফজাল গুরুর ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় ভারতবিরোধী শ্লোগান দেয় কানাইয়া। এ অভিযোগে সেসময় তাকে আটক করা হয়। ২০০১ সালে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকায় আফজাল গুরুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কাশ্মিরি জঙ্গিদের করা ঐ হামলায় ১৪ জন নিহত হয়।

খবর বিবিসির।