আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ রাজনৈতিক দলের সকল ধরনের তথ্য নাগরিককে সরবরাহ করতে বাধ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আবেদন অনুযায়ী তথ্য না দেয়া আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, যে কোনো ব্যক্তি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে ইসি দলের সম্মতি ছাড়াই তা প্রকাশ করতে পারবে।
২০১৩ সালের জুন মাসে বদিউল আলম মজুমদার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের তথ্য জানতে চান। নির্বাচন কমিশন তখন জানায়, রাজনৈতিক দলের অনুমতি ছাড়া এ হিসাব দেয়া যাবে না। এরপর তিনি কয়েক দফায় নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনের কাছে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। কিন্তু প্রতিবারই তার আবেদন নাকচ হয়।
নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ছয় বিশিষ্ট নাগরিক এম হাফিজউদ্দিন খান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, এএসএম শাহজাহান, আলী ইমাম মজুমদার, বদিউল আলম মজুমদার ও অধ্যাপক তোফয়েল আহমেদ হাইকোর্টে ওই রিট দায়ের করেছিলেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ড. শরীফ ভুঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।
এ প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, তথ্য কমিশন ও ইসিকে বিবাদী করে মামলাটি করা হয়। আমরা মূলত রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে মামলাটি করেছিলাম। কিন্তু আদালত বৃহত্ পরিসরে রায়টি দিল। এখন মানুষ রাজনৈতিক দলের যেকোনো তথ্য জানতে পারবে। এটি একটি যুগান্তকারী রায়।
রাজনৈতিক দলগুলো কখনো তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করে না। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু কমিশন কখনো তা প্রকাশ করত না। এমনকি কেউ চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলো।