দুর্দিন কাটিয়েছিলেন যেসব বলিউড তারকা

অনেকের ধারণা, বলিউড মানেই লাইমলাইটের মধ্যমণি হয়ে থাকা, গ্ল্যামার, পার্টি, পেজ থ্রি, প্রচুর টাকা। অনেকটা ঠিক। কিন্তু এর আড়ালেও আরও এক বলিউড লুকিয়ে থাকে। সেই চিত্রটা খুব একটা আলো ঝলমলে নয়। দেখে নিন এমন স্টারদের তালিকা যাঁরা এক সময় সব হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
 
শ্বেতা বসু প্রসাদ: ছোট থেকেই বলিউডে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন শ্বেতা। অসামান্য অভিনয়ের সুবাদে জাতীয় পুরস্কারও জেতেন তিনি। তবে এমন একটা সময় আসে যখন সত্যিই প্রায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন শ্বেতা। পরে দক্ষিণী ছবিতেও কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন তিনি। তার মধ্যেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হন। এখন ফের একবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
 
IMG0প্রীতি জিন্টা: এক সময় তার গালের টোল দেখে লক্ষ পুরুষের বুকে আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। একের পর এক হিট দিয়ে এক সময় এক নম্বর নায়িকার দৌড়েও ছিলেন প্রীতি। তবে হঠাত্‍ই বলিউড থেকে হারিয়ে গেলেন তিনি। নেস ওয়াদিয়ার সঙ্গে প্রেমও ভাঙল। নিজের প্রোডাকশনে 'ইশ্‌ক ইন প্যারিস' ছবি তৈরি করে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে তা একেবারে ফ্লপ করে। সে সময় দেনায় ডুবে গিয়েছিলেন প্রীতি। পারিশ্রমিক না পেয়ে ছবির চিত্রনাট্যকার আব্বাস টায়ারওয়ালা প্রীতির নামে মামলাও করেন। আদালতেও প্রীতির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে যায়। সে সময় সালমান খান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
 
IMG1জ্যাকি শ্রাফ: চিত্র নির্মাতা সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা-র কাছে থেকে এক সময় অনেক টাকা ধার করেছিলেন বলিউডের 'জগ্গু দাদা'। তবে সে টাকা কিছুতেই শোধ করতে পারছিলেন না তিনি। ২০০৮-এ সাজিদ তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও ভাবেন। টাকা শোধ করার জন্য নিজের ফ্ল্যাটও বিক্রি করে দেন জ্যাকি। তবে তাও ঋণের জালে আটকে পড়েছিলেন। তাকেও সে সময় সাহায্য করেন সালমান। আর্থিক দিক থেকে তো বটেই, নিজের প্রোডাকশনের সিনেমাতে কাজ দিয়েও জ্যাকিকে ফের মূল স্রোতে ভিড়িয়ে আনেন।
IMG2গোবিন্দা: এক সময়ের হিরো নম্বর ওয়ান-ও হারিয়ে গিয়েছিলেন বলিউডের মূল স্রোত থেকে। তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন ঋণের জালে। বলিউড ছেড়ে রাজনীতিতেও কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তা সফল হয়নি। 'পার্টনার' ছবিতে অভিনয় করে ফের একবার বলিউডে সফল ভাবে কামব্যাক করেন। ধীরে ধীরে তিনি তার সব ঋণ পরিশোধ করেন।
 
IMG3অমিতাভ বচ্চন: বলিউডের সব থেকে বড় স্টার। শুধু তার নামের জোরে কত ছবি যে হিট করে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে নিজের প্রোডাকশন হাউজ ABCL পুরোপুরি ফ্লপ করায় বিরাট অঙ্কের ঋণের বোঝা চাপে বিগ বি-র মাথায়। ৯০-এর দশকের সেই টাকার পরিমাণ ছিল ৯০ কোটি টাকারও বেশি। নিজের বসত বাড়িও ব্যাঙ্কে মর্টগেজ রেখেছিলেন তিনি। সে সময় 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' সঞ্চালনার দায়িত্ব পান তিনি। বিরাট সাফল্যের মুখ তো দেখেই সেই শো, সঙ্গে তাঁর যাবতীয় ঋণ থেকেও বেরিয়ে আসেন তিনি।
 
IMG4এ কে হাঙ্গাল: শোলে, নকম হারাম-এর মতো হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। সিরিয়াল থেকে সিনেমা, থিয়েটার সব জায়গায় স্বচ্চল এই স্টার শেষ বয়সে এসে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। ৯৫ বছর বয়সে অসুস্থ অবস্থায় কপর্দকহীন হয়ে পড়ে ছিলেন লোক চক্ষুর আড়ালে। সে সময় তাকে সাহায্য করেন জয়া বচ্চন, সালমান খানের মতো সহৃদয় ব্যক্তিরা।