স্মৃতি বিজড়িত ছোট মধুপুর গ্রাম ছিল বড় আদরের;
খুঁজে পাবো না আর, যা খুবই দুঃখ এবং পরিতাপের।
রাক্ষসিনী যমুনার করাল গ্রাসে মুছে গেছে তা চিরতরে;
পশ্চিমে নেই কুলকুল ধ্বনি কোলচিনাখরা তটিনীর নীরে।
পূর্বে মাঠান জমি, তত্পর বয়ে গেছে ভয়াল নদী যুমনা;
পশ্চিম দিকে মাঠ ঘেঁষে খালসম উক্ত নদী আঁকা-বাঁকা।
দক্ষিণে গণপতদিয়া গ্রাম ও ধোবাখোলা করনেশন হাইস্কুল;
উত্তরে ঐতিহ্যবাহী হাট মথুরা ও বাঁকা সহোদরা গাঁ যদুপুর।
কৃষিকাজ-সহ চাকুরে একচল্লিশটি পরিবার নিয়ে জনপদ;
অথচ সব চিরতরে শেষ হয়ে গেছে, পূরণ হবে না মনোরথ।
দিবা রজনী দুশোর অধিক লোকের আর নেই মধু গুঞ্জরণ;
মাঠকুরা—ধলাইবিলের মাছ কেউ ধরে না নিয়ে আপনজন।
কোথায় সাজানো-গোছানো চৌধুরী, মোল্লা ও শেখ পাড়া;
হাফেজ, খান বাড়ি এবং বিশ্বাস আর বৃদ্ধ পণ্ডিত দাদারা।
আর তো ডাকে না শিমুল বৃক্ষে ঈগল বিহঙ্গ প্রহরে প্রহরে;
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার হয় না এখন সমাগম শুভ বিয়ের আসরে।
শেখ বাড়ি ঘেঁষে আকন মোল্লার ভিটায় সে কাঁচা-মিঠা আম;
চৈতি দুপুরে দামাল ছেলেরা খেতো কতই করে না ধুমধাম।
বর্ষায় শাপলার মজাদার খইয়ের কথা এখনো মনে পড়ে;
জলজ ফল শালুক ডুবে ডুবে উঠিয়েছি ধানের খেত হতে।
আউশ ধানের ঢেঁকিছাঁটা চিঁড়া, আর বরন ধানের যে মুড়ি;
এখনো মনে পড়ে ভাজা পুঁটি মাছে বোরো ধানের খিচুরি।
শীতকালে খেসারি এবং মটরশুঁটি গোপনে মাঠে সিদ্ধ করে;
গোল হয়ে মজা করে খেয়েছি রূপবানের গানের সুর ধরে।
অতি ছোট জনপদ হলেও বেড়া থানায় এর তুলনা মেলা ভার;
শিক্ষা-দীক্ষায় ও সংস্কৃতিতে তাক লাগিয়ে ওপরে ছিল সবার।
শহীদ ময়ছের চৌধুরী ও ওফাজ মোল্লার কথা সদা মনে পড়ে;
শিক্ষিত মানুষের যথাযোগ্য মূল্য দিতেন অতীব আপন করে।
এখনো তো ক্ষণে ক্ষণে হূদয় কাঁদে জন্মভূমি মধুপুরের তরে;
যদি আবার ফিরে পেতাম, বুকে রাখতাম একান্তে জড়িয়ে ধরে।