সিরিয়ায় সহিংসতা বাড়ছে

সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির নানা শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া প্রাথমিক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পরও দেশটিতে সহিংসতা বাড়ছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে আলোচনার পর তারা একটি চুক্তিতে একমত হয়েছেন।
 
এর মাধ্যমে তারা  সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির খুব কাছে পৌঁছে গেছেন বলেও দাবি করেন কেরি। কিন্তু যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার এ দ্বারপ্রান্তে এসেও সিরিয়ায় সহিংসতা বাড়ারই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রোববার দামেস্কে কয়েকটি স্থানে বোমা হামলায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, হোমসে দুইটি গাড়ি বোমা হামলায় আরও অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‍যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’।
 
প্রায় পাঁচ বছর ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন পক্ষের হস্তক্ষেপে এ যুদ্ধ মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিরোধীদের ওপর গত সেপ্টেম্বর থেকে বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। তাদের এ হfমলা সিরিয়ায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য আসাদ এবং বিদ্রোহী পক্ষ উভয়েই রাজি থাকলেও দুপক্ষই নানা রকম শর্ত দিচ্ছে।
 
রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি জর্ডানের আম্মানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সমস্ত শর্তের ব্যাপারেই নীতিগতভাবে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কথা জানান এবং এ বিরতি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে চুক্তির কার্যবিধি প্রস্তুত হয়ে গেছে। বলতে গেলে, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় আজ আমরা সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছি।
 
তবে এ চুক্তির পরও সিরিয়ায় মাঠ পর্যায়ের লড়াই পরিস্থিতির আশু কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না বলেও জানান। রোববার সিরিয়ায় দফায় দফায় বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। এ সমস্ত হামলায় অন্তত ১৪০ মানুষ নিহত হয়েছে। সিরিয়া সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা ক্ষুণ্ণ করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে এর নিন্দা করেছে রাশিয়া। বিবিসি।