‘অনার কিলিং’ নিয়ে নির্মিত ছবি চাপে ফেলেছে পাকিস্তানকে

এ গার্ল ইন দ্য রিভার। ৮৮তম অস্কারের জন্য মনোনীত পাকিস্তানি একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম। যেখানে পরিবারের ‘সম্মান’ রাখার নামে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক ১৯ বছরের তরুণীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। আর এ ছবিই এখন পুরো দেশে এ ধরনের হত্যকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া এ নিয়ে পুরো দেশে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। পাকিস্তানে প্রতিবছর “সম্মানজনক হত্যার” (অনার কিলিং) শিকার হয় ১ হাজার নারী। গড়ে একদিনে তিনজনকে হত্যা করা হয়। খবর টেলিগ্রাফের।
 
পরিবারের অমতে দরিদ্র ঘরের কারখানার এক কর্মচারীকে ভালোবাসে সাবা কায়সার। পরিবারের অমতে গিয়ে ঐ ছেলেকে বিয়ে করার জন্য পালিয়ে যায় দু’জন। বিয়ে করে তারা। কিন্তু সাবার বাবা কোরআনের ওপর হাত রেখে তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়, যদি সে বাড়িতে ফিরে আসে, তাহলে তার কোনো ক্ষতি করবে না। তাকে তার স্বামীর কাছে সম্মানের সাথে তুলে দিবে। সে তার বাবার কথায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়, বিশ্বাস করে। কিন্তু বিশ্বাসের প্রতিদানে তার বাবা ও চাচা তাকে নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে পেটায় এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। শেষ মুহূর্তে সাবা তার মাথাটা একটু ঝাঁকুনি দিলে তার চোখের সামনে দিয়ে গুলি চলে যায় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে। তখন তার নিস্তেজ দেহটাকে ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু সাবা দমে যায়নি। সে পানি সাঁতরে তীরে ভেড়ে এবং তাকে উদ্ধারের জন্য মানুষ খুঁজতে থাকে।
 
সাবার এমনই মর্মস্পর্শী কাহিনি পত্রিকায় পড়ার পর আমি সরাসরি হাসপাতালে চলে যাই। সে আসলেই একজন অসাধারণ এবং সাহসী তরুণী। সে আমাকে তার কাহিনি শোনায়। তখনই আমরা তাকে নিয়ে ছবি তৈরির কাজ শুরু করে দেই। সে তার বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন। বলেন অস্কার মনোনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির নির্মাতা শারমীন ওবায়েদ চিনয়। গত রবিবার সাবার বেঁচে যাওয়ার লোমহর্ষক কাহিনি নিয়ে নির্মিত এ ছবি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে। তবে এ ছবি সর্বোচ্চ এ পুরস্কার শেষ অব্দি জয় করুক বা না করুক এটি ইতোমধ্যেই পুরো পাকিস্তানে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনা উঠে আসার পর “পরিবারের সম্মান বাঁচাতে হত্যার” মতো জঘন্য একটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বলেন তিনি। এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ হত্যা বন্ধে আইন প্রয়োগ করে দেশকে এই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। দেশটিতে পরিবারের কোনো নারী ধর্ষিত হলে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক থাকলে, বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে, কাউকে ভালোবাসলে পরিবারের সম্মান রাখার জন্য তাকে হত্যা করা হয় এবং দেশটির আইন এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে থাকে। —দ্য গার্ডিয়ান