স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি নতুন বিভাগ হচ্ছে

সরকারের আকার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভেঙে দুটি বিভাগ করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুশাসন দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অনুশাসনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন এটি প্রস্তাব আকারে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য পাঠাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ করা হবে। মোট নয়টি দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থা নিয়ে গঠিত মন্ত্রণালয়ে কোনটি কোনো বিভাগের অধীন হবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসনে। একটি হবে জননিরাপত্তা বিভাগ। এর অধীন থাকবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সকল তদন্ত সংস্থা ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দ্বিতীয়টির নাম হবে অভ্যন্তরীণ বিভাগ। এর অধীন থাকবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ে দুটি বিভাগ করা হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ রাখা যেতে পারে। যেমন আইন বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনেই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ রয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত হবে আরও কিছু  বিচার-বিশ্লেষণের পর।

সূত্র জানায়, এরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান কাঠামোতে সংস্কার আনা হবে। উচ্চ শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে ভাগ করে বিভাগ করা হবে। এছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙেও আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোর কাজ শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, সময় বিবেচনায় বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেড়েছে। ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে সেসব জায়গায় তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কাজের গতি বাড়বে। এ বিবেচনায় প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।  এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ (সংস্কার ও সমন্বয়)  বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিধি ও অনুবিভাগ মন্ত্রণালয় বিভাজন নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভাজন ঠিক করে দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে নতুন বিভাগ গঠনের যৌক্তিকতাসহ প্রস্তাবনা আসলে তা সার-সংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তারপর তা প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে যাবে। সচিব কমিটির পর তা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। নিকারের বৈঠকে অনুমোদনের পরই আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৪৫টি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ৭৫ জন সচিব রয়েছেন (পরিকল্পনা কমিশন-প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, ভূমি আপিল ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ)। ৮টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিক বিভাগ রয়েছে। ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে সেখান থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় করা হয় অর্থ থেকে সরিয়ে। খাদ্য থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণকে আলাদা করা হয়েছে। যোগাযোগ ভেঙে সেতু বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় করা হয়েছে।

এখন নতুন করে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাড়ানো হলে মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তথা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবের সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না বাড়ানো হলেও সচিবের সংখ্যা  যে বাড়বে সেটা প্রায় নিশ্চিত