শুক্র ও শনিবার মেলা শুরুর সময় আধা ঘণ্টা আর রবি ও সোম মেলা শুরুর সময় এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো হলো। বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রকাশকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য মেলার এ সময়সীমা বাড়ালো মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকাশকরা বলছেন, মেলা শুরুর সময় না বাড়িয়ে মেলা শেষের সময় বাড়ালে উপকার হতো। বেলা দুইটা থেকে না করে যদি বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত বাড়ানো হতো তাহলে প্রকাশকদের উপকার হতো। যে সময় বাড়ানো হয়েছে তা বাংলা একাডেমির লোক দেখানো উদ্যোগ। এ সময় বাড়ানোর আসলে কোনো মানেই হয় না।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ জানান, ‘বৃষ্টি এবং প্রকাশকদের দাবি, সবকিছু মিলিয়ে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, ‘বইমেলার সময় বাড়ানো হয়েছে। বাংলা একাডেমি যে এ নিয়ে চিন্তা করেছে সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে এ সময়সীমা বৃদ্ধিতে প্রকাশকদের কোনো লাভ হবে না।’
এদিকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, রাতে সময় বাড়ানোর ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। প্রকাশকদের দিকে যেমন নজর রাখতে হয় তেমনি পাঠকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাতের দিকে সময় বাড়ানোর বিষয়ে রাজি না। শুধু একদিন বৃষ্টিতে যে পাঁচ ঘণ্টা ক্ষতি হয়েছে সে সময়টুকু হিসাব করে বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে মেলার সময় বাড়বে না।
শুধু প্রকাশক নয়, লেখকরাও চান মেলার সময় আরও বাড়ানো হোক। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘শিলাঝড়ের পর বইমেলায় এসেছি। লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখে খুব খারাপ লেগেছে। যাদের বড় প্রকাশনা তারা হয়তো এ ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবে, কিন্তু ছোট প্রকাশনাগুলোর কথা ভেবে কর্তৃপক্ষের উচিত বিবেচনা করা। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই, কিছু একটা করুক উনি।’
এদিকে গতকাল রাতে মেলা কমিটির এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দাবি ছিল মেলা নির্ধারিত সময়ে খুলে রাত ৯টায় শেষ হওয়ার। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই একাডেমি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃষ্টিস্নাত মেলায় প্রকৃতির স্নিগ্ধতা
বৃষ্টির পরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত বইমেলায় বিরাজ করছে সবুজ প্রকৃতির স্নিগ্ধতা। আগের দিনের বৃষ্টি বিধ্বস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে বইমেলা। কিছু কিছু জায়গায় কাদা থাকলেও পাঠকদের চলাচলের জায়গাগুলোতে বালি ফেলে শুকনো করা হয়েছে। তাই ছুটির আগের দিনে সন্ধ্যাটা পাঠকের আনাগোনায় ভরপুর হয়ে উঠেছিল।
অভিজিত্ স্মরণে কোনো উদ্যোগ নেই
আজ মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিত্ রায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ব্লগার ও লেখক অভিজিত্ রায়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গতকাল বইমেলায় অনেক পাঠকই গত বছর বইমেলার বাইরে লেখক অভিজিত্ হত্যার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিচারের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সিসিমপুর বটতলা প্রধান আকর্ষণ
বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলায় প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য করা হয়েছে কিডস কর্নার। পুরো বইমেলা জুড়ে শিশুদের প্রধান আকর্ষণ ছিল হালিম, টুকটুকি ইকরিরা। এসব চরিত্র শিশু প্রহরে শিশুদের আনন্দে মাতিয়ে রাখে। বইমেলায় প্রতি শুক্র ও শনিবার এবং ছুটির দিনগুলোতে হালিম, টুকটুকি ইকরিরা সিসিমপুর বটতলায় পারফর্ম করেন সকাল ১২টা, দুপুর ৩টা, সন্ধ্যা ৬টায়। আজ শুক্র ও শনিবারও তারা একই সময় থাকবে বইমেলায়।
মোড়ক উন্মোচন
মেলায় এসেছে বনশ্রী বিশ্বাস স্মৃতিকথার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতিকণার স্মৃতিকথা’। গতকাল একাডেমির শামসুর রাহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বইটির প্রকাশনা উত্সব। সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্র বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সাবেক ডিআইজি (প্রিজন) শামসুল হায়দার, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল প্রমুখ। টেরেকোটা ক্রিয়েটিভ্্স থেকে প্রকাশিত বইটি সম্পাদনা করেছেন জান্নাত-এ-ফেরদৌসী। এ ছাড়া গতকাল বইমেলার নজরুল মঞ্চে প্রবাসী লেখক ড. এ কে এম আলমগীরের উপন্যাস ‘ফিদু ইজ ব্যাক’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে সাহস পাবলিকেশন্স।
নতুন বই
একাডেমির তথ্য মতে গতকাল প্রকাশিত হয়েছে ৭৪টি নতুন বই। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে মোহিত কামালের ‘উড়াল বালক’ (অনিন্দ্যপ্রকাশ), সুজাত মনসুরের ‘সফল রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ (উত্স প্রকাশন), কাজী জাকির হোসেনের ‘সক ওয়াসিফের ‘বাসনার রাজনীতি কল্পনার সীমা’, ফরহাদ মজহারের ‘অসময়ের নোটবই’, অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর ‘মুখই স্বাস্থ্যের প্রবেশপথ’ (আগামী), শরীফা বুলবুলের ’বীরাঙ্গনা নয় মুক্তিযোদ্ধা’ (বলাকা)।
মেলামঞ্চের আয়োজন
গতকাল বিকালে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশে নারী জাগরণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাসুদুজ্জামান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুলতানা কামাল এবং মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।