অভিজিত রায়ের সৎ মেয়ে তৃষা লিখেছেন, কিছুসময়ের জন্য, তাকে ‘বাবা’ বলতে আমার অদ্ভুত লাগতো। কারণ, তিনি ছিলেন মজার একজন মানুষ। বুদ্ধির আভা সবসময় লেগেই থাকতো। তার বইগুলো ছিল সমকামিতার নেপথ্যের বিজ্ঞান নিয়ে, ধর্মীয় উগ্রপন্থার ‘ভাইরাস’ সমপর্কে। বাংলাদেশের মূলধারায় ধর্মনিরপেক্ষ আলোচনাকে আরও ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করার ফলে ক্রমেই পরিচিত একজন অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে উঠছিলেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে বাবাকে নিয়ে এমন কথাই লিখেছেন তৃষা আহমেদ। তিনি লিখেছেন সেই হামলাটির কথা, যেটি তিনি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
গত বছরের ২৬ই ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশ থেকে আমার কাজিনরা তিনটি বার্তা পাঠিয়েছে। এগুলো দেখেই, আমার চোখে পানি চলে আসে। জানতে পারি আমার বাবা মারা গেছে। মা বাংলাদেশে আইসিইউতে। বাবা ছিলেন মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার কট্টর বিশ্বাসী। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন সাহসী ও অকুতোভয় হতে। আমি ক্ষুদ্ধ বা আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে বললে কম বলা হবে। বাংলাদেশে হাজারো মানুষ আমার বাবার হত্যার বিচার চেয়েছে। মানুষ যা দেখেনি তা হলো, এক মেয়ে ছিল, সে বাকশক্তিহীন হয়ে গেছে।