শিশু জিহাদ : ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিতে আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের

ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে যে রায় হাই কোর্ট দিয়েছে, তা স্থগিতের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
 
রবিবার চেম্বার বিচারপতি বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনে মঙ্গলবার শুনানির জন্য রেখেছেন।
 
এক রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রায়ে জানায়, শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে।
 
তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কতো হবে এবং কারা ওই অর্থ দেবে তা জানতে পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আবদুল হালিম। ওই রায় স্থগিত চেয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
 
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, রায় স্থগিত চেয়ে আমাদের আবেদনটি করা হয়েছে। অপরপক্ষ দুইদিন সময় চাওয়ায় চেম্বার বিচারপতির আদালতে মঙ্গলবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
 
২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েকশ’ ফুট গভীর একটি নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অনেক নিচে ক্যামেরা নামিয়েও ফায়ার সার্ভিস কোনো মানুষের ছবি না পাওয়ায় পাইপে জিহাদের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ওই সন্দেহ রেখেই উদ্ধার অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকজন তরুণের তৎপরতায় তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে উঠে আসে অচেতন জিহাদ। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেঁচে নেই।
 
ওই ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করলে দুই দিন পর চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করে, যাতে জিহাদের মৃত্যুর জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
 
জিহাদকে উদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুল হালিম রিট আবেদনটি করেন।
 
ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট রুল জারি করে। জিহাদের মৃত্যুর জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।