মোবাইল ফোন ব্যবহারে লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ রবির

বিশ্বজুড়ে ২০২০ সালের মধ্যে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার ও আর্থিক লেনদেনে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে ‘কানেক্টেড উইম্যান কমিটমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ বা ‘সংযোগের আওতায় নারী শীর্ষক প্রতিশ্রুতি’ গ্রহণ করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ।
 
এবার সেই প্রতিশ্রুতিতে একাত্মতা প্রকাশ করল বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড।  সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
 
জিএসএমএ’র ডিরেক্টর জেনারেল ম্যাটস গ্রানরিড বলেন, ‘ক্রমাগত সংযোগের এ বিশ্বে পিছিয়ে আছেন নারীরা। জিএমএম’র গবেষণা অনুযায়ী, নিম্ন  ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে পুরুষের তুলনায় ২০ কোটি নারী মোবাইল ফোনের সেবা থেকে বঞ্চিত। এমনকি নারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও মোবাইল ইন্টারেনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের মত সেবা গ্রহণ না করার ফলে আর্থ-সামাজিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।’
 
নারীর হাতে ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ নারীর অগ্রগতি মানে সমাজের অগ্রগতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বলেও জানান তিনি।
 
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জেন্ডার সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মোবাইল ফোন অপারেটররা।
 
জিএসএমএ’র সদস্য শ্রীলংকার ডায়লগ আজিয়াটা পিএলসি, মালয়েশিয়ার ডিজি টেলিকমিউনিকেশনস এসডিএন বিএইচডি (ডিজি), ইন্দোনেশিয়ায় ইন্দোস্যাট ওরেন্দু, মালদ্বীপের ওরেন্দু, মায়ানমারের ওরেন্দু, বাংলাদেশের রবি আজিয়াটা লিমিটেড, টিগো রুয়ান্ডা ও তুরস্কের টুর্কসেল নারীকে মোবাইল সংযোগের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
 
উদ্যোগের অংশ হিসাবে ২০২০ সালের মধ্যে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের নারীদের মধ্যে মোবাইল ইন্টারেনট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
 
মোবাইল ফোন অপারেটররা ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; আরো অনেক পদক্ষেপ পরিকল্পনাধীন রয়েছে, যেমন- নারী এজেন্টদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, ডাটা টপ-আপ প্রক্রিয়াটি নারীদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ কন্টেন্টের মাধ্যমে নারীদের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
 
উন্নয়নশীল বিশ্বে মোবাইল ফোনের মালিকানা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে জেন্ডার অসমতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোবাইল শিল্পে ১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ হতে পারে।