আমি কখনও নিজের রান নিয়ে ভাবি না। আমি দলের প্রয়োজনে খেলি। দলের জয়ে যদি এক রান করতে পারি তাতেই আমি খুশি। সেঞ্চুরির কথা আজ চিন্তাই করিনি।
২ রানে ২ উইকেট পড়ে গেছে। এখান থেকে কেউ টানা তিন বলে কিভাবে বাউন্ডারি মারতে পারেন! আর কেউ না হোক সাব্বির রহমান রুম্মন পারেন।
লোকে বলে, এটাই সাব্বির। যিনি আকাশের সমান বড় সাহস নিয়ে ব্যাট করতে পারেন। যিনি প্রলয়ের মধ্যে দাঁড়িয়েও গান করতে পারেন। সাব্বিরের নিজের কাছে ব্যাপারটা অবশ্য এতো বড় বড় কথা নয়। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও তাণ্ডব চালানোর তার নিজস্ব একটা ব্যাখ্যা আছে। আর সে ব্যাখ্যা বলে, ঝুঁকি ছাড়া জীবনে আছে কী!
একের পর এক সঙ্গীদের হারাতে থাকার মধ্যেও অমন ব্যাটিং করা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তরুণ এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘আমি জানতাম, আমি বেশি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে গেলে দলের আরও বিপদ বাড়বে। কিন্তু ঝুঁকি না নিয়ে উপায় কী? টি-টোয়েন্টিতে রান তো করতে হবে। আমি ভেবেছি, যতক্ষণ পারি, আক্রমণ করবো। দলের রান বাড়লেই হলো।’
হ্যাঁ, সাব্বিরের সব চিন্তা এই দলকেন্দ্রিক। পরিষ্কার বললেন, নিজেকে নিয়ে তার এতোটুকু ভাবনা নেই। আর দলও তেমন। পাশেই বসে থাকা মাশরাফি বললেন, সাব্বিরকে তারা এই স্বাধীনতাটা সবসময়ই দিয়ে রাখতে চান। পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো, সাব্বির যেনো নিজের ব্যাটিংটা করতে পারেন, ‘আমরা চাই সাব্বির সব সময় পরিষ্কার মন নিয়ে খেলুক। আমরা সব সময় ওকে ওর স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দিতে চাই।’
তৃতীয় বলেই ক্রিজে আসা সাব্বির খেলেন ৫৪ বলে ৮০ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। ম্যাচ সেরার পুরস্কার এনে দেয়া তার ইনিসংটি সাজানো ১০টি চার ও একটি ছক্কায়। ২৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর সাব্বির যেভাবে ব্যাটিং করেছেন তাতে মুগ্ধ মাশরাফি, ‘সাব্বির অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে। ও নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করেছে। ও শটসগুলো দলের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিয়েছে। ও এমন ব্যাটিং না করলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা আরও কঠিন হত।’
অবশ্য দলকে এই এগিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাব্বিরের নিজের সামনেই সুযোগ ছিলো কিছু ইতিহাস গড়ার। রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় জয় এনে দিতে ৮০ রানের চমত্কার এক ইনিংস খেলেন সাব্বির। তার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির। তৃতীয় বলেই ক্রিজে আসা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সুযোগ ছিল টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে প্রথম শতক করার। ম্যাচ শেষে এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বললেন, ব্যাটিংয়ের সময় কখনও শতক-অর্ধশতকের কথা ভাবেন না তিনি, ‘আমি কখনও নিজের রান নিয়ে ভাবি না। আমি দলের প্রয়োজনে খেলি। দলের জয়ে যদি এক রান করতে পারি তাতেই আমি খুশি। সেঞ্চুরির কথা আজ চিন্তাই করিনি।’
ভারতের আইপিএলসহ বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ নিয়েও কোনো ভাবনা নেই বাংলাদেশের এই টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞের, ‘আমি আসলে এখনও বাইরের কোনো লিগ নিয়ে ভাবছি না। এখন আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ নিজের খেলা নিয়ে। প্রতিদিন আমি উন্নতি করতে চাই। তিন নম্বরে চেষ্টা করেছি দলের জন্য অবদান রাখতে। আশা করি, পরের ম্যাচগুলোতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’