‘বাংলা ভাষা না থাকলে আমি সৌমিত্র থাকতাম না’

উপমহাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা ভাষা না থাকলে আমি সৌমিত্র থাকতাম না। সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে। আসলে সংস্কৃতি জীবনধারার মধ্যে মিশে রয়েছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে কত বিচিত্র বিষয় যে থাকে। মানুষের শ্রেণি-বিচারও এর মধ্যে থেকে উঠে আসে। বাংলা খাবারের মধ্যেও অনেক বৈচিত্র্য। বাঙালি বলে অহংকার করতে পারি যে, বাঙালির মত এমন ব্যালান্সড ফুড মনে হয় আর কোন জাতের নেই।
 
মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথে যাত্রা শুরু হলো নতুন রেস্টুরেন্ট ‘ক্যালকাটা দরবার’। এই রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন করতে এসে উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এসব কথা বলেন।
 
এ রেস্টুরেন্টের অন্যতম স্বত্বাধিকারী তথ্যচিত্র নির্মাতা মাসুদ করিম। গত বছর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে মাসুদ করিম নির্মিত ‘কৃষ্ণকলি’ তথ্যচিত্রটি ভারত ও বাংলাদেশে যথেষ্ট প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম পান্থপথের করিম টাওয়ারে এ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মেরিনা জাহান। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রফেসর অ্যামিরেটাস আনিসুজ্জামানের বক্তব্যের পর রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধন করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এসমসয় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মিজানুল করিম ও তথ্যচিত্র নির্মাতা মাসুদ করিম ও জাপানি নাগরিক কে ই কো হোসেন। অনষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি নাসির আহমেদ।
 
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভারতীয় খাবার বলতে আমরা ভারতের উত্তর অঞ্চলের খাবারকে বুঝি। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের খাবারকে বাঙালি খাবার হিসেবেই বলা হয়। অার এই বাঙালি খাবারকে অনেকে বলে গার্হস্থ্য খাবার। এটা বাণিজ্যিক খাবার নয়। আশার কথা ক্যালকাটা দরবারে দুই অঞ্চলের খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে।
 
পশ্চিম পান্থপথের করিম টাওয়ারে প্রথম তলায় অবস্থিত রেস্টুরেন্টে খাদ্যরসিকদের জন্য বিশেষ পাঁচটি থালি সাজানো হয়েছে রয়েছে। পছন্দমাফিক অর্ডারমাফিক এই থালি উপভোগ করা যাবে। ২৯৯ টাকায় উপভোগ করা যাবে ঢাকা থালি। এই থালি সাজানো থাকবে কাচ্চি বিরানি/মাটন দম বিরানি, গরুর কালাভুনা/ চিকেন তান্দুরি, সালাদ, রায়তা ও মিষ্টি। ২৭৫ টাকা উপভোগ করা যাবে ‘কলকাতা থালি’। যেখানে রয়েছে ছয়টি মুখরোচক খাবারের আইটেম। এ মধ্যে রয়েছে চিকেন ধনিয়া মাসালার সঙ্গে বাটার নান, তান্দুরি চিকেন, ডাল ভাজা ও রায়তা। আরও রয়েছে সিলেট থালি। এই থালি সাজানো থাকবে চিকেন দম বিরানি, বিফ দো-পেয়াজা/ মাটন.., নান, সালদা ও রায়তা। দাম পড়বে ২৮৫ টাকা। শিলিগুড়ি থালিও উপভোগ করার আয়োজনও রয়েছে এই রেস্টুরেন্টে। ২৪৫ টাকা এই থালিতে পাওয়া যাবে রাজ কচুরি. তান্দুরি চিকেন/ ফিশ তাওয়া ফ্রাই, ভর্তা প্রভৃতি।