বিমানবন্দর ত্যাগে আয়কর সনদ লাগবে বিদেশিদের

দেশে কর্মরত বিদেশিদের বিমানবন্দর ত্যাগের সময় আয়কর ছাড়পত্র দিতে হবে। বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে নেয়া নানা উদ্যোগ ফলপ্রসূ না হওয়ায় আয়কর পরিশোধের সনদ দেখানোর এই বাধ্যবাধকতা চালু করতে যাচ্ছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
 
এ জন্য বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আয়করের জন্য আলাদা একটি শাখা চালু হবে। কেউ কর প্রদান করে না থাকলে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই ডেস্কের কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে আয়কর আদায় করবেন। আয়কর পরিশোধ সনদ দেখাতে না পারলে কিংবা প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ না করলে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে বিদেশিদের নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানেও এনবিআরে গোয়েন্দা সেল অভিযান চালাবে। নিয়োগকর্তার উপর আরোপ করা হবে জরিমানাও।
 
গতকাল মঙ্গলবার এনবিআর-এ অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিদেশি নাগরিকরা তাদের প্রকৃত আয় গোপন করে কর ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সঠিক রাজস্ব আদায়ের জন্য দেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের প্রকৃত তথ্য জানতে এনবিআর যথাযথ উদ্যোগ নেবে।
 
বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, গত বাজেটে অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেয়া কিংবা কাজে রাখার ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপের বিধান করা হয়েছে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদেশি নাগরিক পাওয়া গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের মোট প্রদেয় আয়করের অর্ধেক কিংবা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি তা জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর অবকাশ সুবিধাসহ অন্যান্য আয়কর সুবিধাও বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। রয়েছে নিয়োগকর্তার জেল-জরিমানার বিধানও। বিষয়টি মাথায় রেখেই বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শিগগিরই বিমানবন্দরে আয়করের আলাদা ডেস্ক স্থাপন করা হবে। কর্মকর্তারা বিদেশিদের আয়কর ছাড়পত্র সনদ পরীক্ষা করবেন।
 
সমপ্রতি ঢাকায় আয়োজিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) ৫০ জনের অধিক বিদেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করলেও তাদের অনেকেই কর প্রদান না করেই নিজ দেশে ফিরে যান। ওই করের বড় অংশ এখনো আদায় করা যায়নি। এ প্রক্রিয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিকই কর ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছেন। বিদেশিদের যে কোনো পরিমাণ আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হয়। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দর এলাকায় আয়করের আলাদা ডেস্ক থাকলে এবং আয়কর ছাড়পত্র সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে বিদেশিরা এভাবে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পেতেন না।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা, বায়িং হাউজ, এনজিও, বহুজাতিক কোম্পানি, তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানি, অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ বিদেশি কাজ করেন। অথচ তাদের প্রকৃত সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তাদের বেতনের প্রকৃত অংকও গোপন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ১২ হাজার বিদেশি তাদের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নেয়। এর বাইরে বেপজা ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র কাছেও কয়েক হাজার বিদেশি কর্মীর নিবন্ধন রয়েছে। বিদেশি কর্মীদের বেশিরভাগই প্রতিবেশী ভারতের। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা, চিন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকরা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধভাবে কাজ করছেন এমন বিদেশি নাগরিকরা প্রকৃত আয় গোপন করে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দিচ্ছেন। আর এর কয়েকগুণ কর ফাঁকি দিচ্ছেন অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশিরা। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোনো ধরনের করের আওতায় নেই। এসব অবৈধ নাগরিক দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।