চরভদ্রাসনে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলকের কাজের উদ্বোধন

 
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৫ বছর পর  ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে স্বাধীনতা চত্বর এর নাম ফলকের কাজের শুভ উদ্ভোধন করা হয়েছে। গত বুধবার সকাল ১০ টায় মাটি কেটে নাম ফলকের কাজের শুভ উদ্ভোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ.জি.এম. বাদল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শফিউদ্দিন খালাশী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. সাইদুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল খায়ের, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে.এম. আনোয়ারুল করিম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ।
 
উক্ত উদ্বোধন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয় ও মোনাজাত করা হয়। খোজ নিয়ে জানা যায় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার সাবেক ইউএনও মাহাবুব হাসান শাহীন ২৬ মার্চ ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একটি স্মৃতি স্তম্ভ গড়ার।
 
উপজেলার বি.এস ডাঙ্গী লোহারটেক খাল সংলগ্ন বড় ব্রিজের পাশ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মরহুম সলেমান মোল্যার নিকট থেকে স্বাধীনতা চত্বরের যায়গাটুক নেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় তিনি তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য তথ্য প্রযুক্তির ব্যাবহারে ডিজিটাল আরকাইভ তৈরি করা শুরু করেন। যার উদ্ভোধন করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী(নিক্সন)।
 
সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি, চার ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সমাজ সেবা অফিসারকে সদস্য সচিব করে সকলের সমন্নয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল যাতে করে অল্প সময়ের মধ্যে নাম ফলকের কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
 
এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা চত্বরের কাজটি দ্রুত করা হবে বলে কথা দিয়েছিলাম যা বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে  দ্রুত সম্পন্ন করতে যাচ্ছি।
 
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউদ্দিন খালাশী বলেন, অত্র উপজেলায় ১৭০ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে এখন ১২০ জন বেচেঁ আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একটি স্মৃতি ফলক আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি যা এখন বাস্তবে রুপ দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।