যশোরে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমায় বাঁধা দেয়ার অভিযোগ

যশোর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাঁধা দেয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ৩১ মার্চ সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিএনপি মনোনীত ১১ জন ও বৃহস্পতিবার ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। বিএনপির জেলা সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু ইত্তেফাকের কাছে দাবি করেন, প্রার্থীরা সন্ত্রাসী হুমকির মুখে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে না পারায় তিনি নিজে বৃহস্পতিবার ৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই চার ইউনিয়নের নাম জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। আর যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়াহিদা আফরোজ ১৫টি ইউনিয়নের কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলে ইত্তেফাককে জানান।
 
বিএনপির জেলা সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু ইত্তেফাককে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর চুড়ামনকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আব্দুস সাত্তারকে সন্ত্রাসীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশকে তারা খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। এছাড়া হৈবতপুর, কাশিমপুর, রামনগর, লেবুতলা ও ইছালী ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে।
 
কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম সন্ত্রাসী হুমকির মুখে নিজে মনোনয়ন জমা দিতে যেতে পারেননি। তার ছেলে জমা দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে মারধোর করে।
 
এছাড়া ১৫টি ইউনিয়নের সংরক্ষিতসহ অন্তত ২০ সদস্য হুমকির মুখে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন সাবু। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তাদের দলের ১৩ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবার ১৫টি ইউপিতেই তারা জিতবেন। আর এটা যেহেতু তৃণমূলের নির্বাচন, তাই তাকে সার্বজনীন ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
 
এদিকে বিএনপি সম্পাদকের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, বিএনপি তাদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনে মিথ্যাচার শুরু করেছে। তাদের কোনো প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়নি।