অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আসছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে মেগা প্রকল্পের জন্য আলাদা তহবিলও করা হবে। অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামি বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি হবে। তবে চলতি (২০১৫-১৬) অর্থবছরের বাজেট সংশোধন করে এর আকার ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন খুব কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের ৬ মাসের তথ্যে দেখা গেছে ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হয়েছে। এর কারণ হলো বরাদ্দ অনেক বেশি ছিল। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভালো নয়। বিশ্বব্যাপী যেখানে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেখানে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সামগ্রীক দিক থেকে আশাবাদী উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়ে শুরু করে এখন ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি।
আগামী বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখন ব্যাপক ভাবে ঋণ কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আমরা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছি, এগুলো হবে ঋণ নির্ভর।
বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এবং সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) প্রতিনিধিরা।
প্রাক বাজেট আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেন, এ ধরনের আলোচনায় কিছু হয় না, এটা ঠিক নয়, আমি এসব বিষয়ে নোট নেই। কাজ হয় না, এটা বলা ‘আটারলি রং’।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইআরজির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেয়া তথ্যানুযায়ী বিনিয়োগ ও ভোগের তথ্য অনেক দুর্বল। এখনও ৭০এর দশকের মেথড এ তারা এ পরিসংখ্যান তৈরী করে।
আগামি বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, বাজেট বড় হওয়া উচিৎ, সরকারের যতটুকু বাস্তবায়ন সক্ষমতা রয়েছে ততটুকু ব্যয়ের বাজেট হওয়া প্রয়োজন। মেগা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, এধরনের প্রকল্পে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি মূল্যায়ন, সামগ্রিক সুফল, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, অগ্রাধিকার বিষয় ইত্যাদিগুলো দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের জিডিপি হিসেবে পরিবর্তন আনায় মাথাপিছু আয় বেড়েছে। তাই রাতারাতি মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় আমরা উঠে এসেছি। কিন্তু চলতি মূল্যে আমাদের জিডিপি বেড়েছে ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এসময়কালে মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রা মানের হিসাবে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতি এরকম থাকবে না বলে তিনি মনে করেন। সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে বেসরকারি খাতে পে-রোল ট্যাক্স পদ্ধতি চালু করার সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি অগ্রিম আয় কর (এআইটি) কমানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।