মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আগুন চুরি করেননি, কোনো পাথর ঠেলে সরাননি। তারপরও অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্ভরযোগ্য এই খেলোয়াড়। বাইরে থেকে কেউ কখনো অভিশাপ দেয়নি। নিজের মনের মধ্যে যন্ত্রণাটা ছিল—২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশকে জেতাতে না পারার যন্ত্রণা। আর এই যন্ত্রণাকেই এক অফুরন্ত অভিশাপ বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
অবশেষে সেই শাপমোচন করলেন তিনি। মিড উইকেট দিয়ে সপাটে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিলেন পাকিস্তানের আনোয়ার আলীর বল। চিত্কার করে ছুটতে ছুটতে হাত থেকে ব্যাট ছুঁড়ে দিলেন; শুয়ে পড়লেন মাটিতে। একে একে সব খেলোয়াড় ঝাঁপিয়ে পড়লেন তার ওপরে। সবার নিচে পড়ে থাকা রিয়াদের চোখে এক ফোটা আনন্দের অশ্রু—নিজেকে এবং বাংলাদেশকে শাপমুক্ত করা, সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এনে দেয়ার আনন্দ।
এই শাপমোচনের ব্যাপারটা যে মনের ভেতরে ছিল, সেটা রিয়াদ খুব একটা লুকানোর চেষ্টা করছেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে অমন নাটকীয় জয়ের পরই বলছিলেন, ‘২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল আমার মাথায় খেলা করছিল। সেবার পারিনি, এবারও নানা ভাবনা খেলা করছিল মাথায়। শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। সেবারের হারকে ভুলিয়ে দিতে সাহায্য করবে এবারের জয়।’
এই ব্যাপারটা বুঝতে হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটামোদীদের ফিরে যেতে হবে ২০১২ সালের ২২ মার্চে। পাকিস্তান আগে ব্যাট করে ২৩৬ রান করেছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের সেই ফাইনালে। শেষ সময়টায় উইকেটে ছিলেন এই মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু সেবার পারেননি সময়ের দাবি মেটাতে। সেবার শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৯ রান, এবার ১৮। সমীকরণ শেষ ওভারে ঠেকেছিল সেবার ৯ রান। মাহমুদউল্লাহ তিন বল খেলে করেছিলেন ৫ রান, আরেক পাশ থেকে পাননি তেমন সঙ্গ। বাংলাদেশ হেরেছিল দুই রানে।
এবার শেষ ওভারের জন্য সমীকরণ রাখেনইনি বাংলাদেশ। জয় মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় শেষের আগের ওভারেই। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল তিন। প্রথম বলেই মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে বুনো উল্লাসে মাতেন মাহমুদউল্লাহ।
এবার আগে থেকেই চাপমুক্ত হয়ে যাওয়ার কৌশলটা কাজে লেগেছে। নিজেই বলছিলেন এই উপায়টা, ‘চাপ তো সব সময়ই ছিল। কিন্তু কখন মাথা ঠাণ্ডা করে খেলতে হবে আর কখন বড় শট নিতে হবে, সেটা বুঝতে হবে। আমি চাইছিলাম খেলাটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। কারণ জানতাম ১৮তম ও ১৯তম ওভার করবে আমির ও সামি। দৃষ্টি ছিল শেষ ওভারে। তবে আগের ওভারেই জয়টা প্রায় নিশ্চিত করেছি আমরা।’