মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় হত্যা করা হয় সালথার স্কুল শিক্ষককে

 
মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ার কারনেই বৃহস্পতিবার বিকালে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার জয়ঝাপ উচ্চ-বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল মোল্যাকে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টা পরও এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। নিহত দুলাল উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের শিহিপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মাদ হোসেনের ছেলে।
 
নিহত স্কুল শিক্ষকের স্ত্রী নারগিস বেগম বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে বসে প্রতিদিন মাদক সেবন করতো প্রতিবেশী মোকারম মোল্যার মাদকাসক্ত ছেলে লিটন মোল্যা ও তার সহযোগিরা। বাড়ির সামনে বসে মাদক সেবন করতে নিষেধ করতেন আমার স্বামী স্কুল শিক্ষক দুলাল মোল্যা। কিন্তু তার বাঁধা উপেক্ষা করে ওরা এখানেই বসে মাদক সেবন করতো। কিছুদিন পর আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলে সাইফুলকে ডেকে নিয়ে ওদের আসরে বসানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি আমার স্বামী টের পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে লিটনকে ধরে চড়-থাপ্পাড় মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয় লিটন। বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হলে ওৎ পেতে থাকা মাদকাসক্ত লিটন প্রকাশ্যে তাকে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
 
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শিহিপুর গ্রামের শিক্ষক দুলাল মোল্যা কোন গ্রাম্য রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। যে কারণে এলাকায় তার কোন শত্রুও ছিলো না। অত্যন্ত সৎভাবে স্ত্রী নারগিস বেগম, ২ ছেলে সাইফুল মোল্যা ও মামনুন মোল্যা এবং ২ মেয়ে নুসরা আক্তার ও গালিবা আক্তারকে নিয়ে জীবন যাপন করেছিলেন তিনি। ছেলে-মেয়ের মধ্যে শিশু মামনুন ছাড়া সবাই স্কুলের শিক্ষার্থী।
 
স্থানীয় গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, লিটন গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বসে মাদক গ্রহন করতো। এর আগেও একাধিকবার অনেকে তাকে মাদকসেবনে বাধা দিলে লিটন হুমকি ধামকি এমনকি মারধরও করেছে। এরপর থেকে ভয়ে লিটনকে কিছু বলেনি। বৃহস্পতিবার বিকালে লিটন স্কুল শিক্ষককের বাড়ির সামনে মাদক সেবন করার সময় স্কুল শিক্ষক দুলাল লিটনকে চড় মারলে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
 
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সালথা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের জমজমাট ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় ব্যক্তি। কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
 
নিহতের চাচাতো ভাই বকুল মোল্যা বলেন, আমার ভাই দুলালকে যে লিটন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, পুলিশ তার বাড়িই পাহারা দিচ্ছে। লিটন এধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েও পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ লিটনকে আটক না করে বরং তার বাড়িতেই পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করে রেখেছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয়ভাবে লিটন প্রভাবশালী হওয়ায় তার এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনা। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে কি ঘটতে পারে তাতো বুঝতেই পারছেন। দুলাল প্রতিবাদ করায় তাকে জীবন দিতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
 
সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডি এম বেলায়েত হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, লিটনের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তার বাড়িতে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে এ অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
 
উল্লেখ্য, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার শিহিপুর গ্রামের নিজ বাড়ীর সামনে জয়ঝাপ উচ্চ-বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবক লিটন।