টঙ্গীবাড়ী উপজেলার চাষিরী গ্রামে কন্যা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ শুক্রবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আবু সাঈদের পরিবারের সকল সদস্য পলাতক রয়েছে।
এদিকে স্বামী চাষীরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সাঈদকে (৪০) পুলিশ আটক করে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চালান করার পক্রিয়া চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
নিহতের বোন লাবনী আক্তার জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ভূক্তভোগী পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাষিরী গ্রামে স্বামীর গৃহ হতে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ উদ্ধার করে গৃহবধূ মাহমুদার লাশ।
জানা গেছে, উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের আ. ছাত্তার এর মেয়ে মাহমুদা আক্তার এর সাথে একই উপজেলার চাষিরী গ্রামের আবু সাঈদের ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বৈবাহিক জীবনে তাদের এক কন্যা সন্তান তাসনিম সাড়ে ৩ বছর রয়েছে। ওই কন্যা সন্তান জন্মের পর হতে স্বামী আবু সাঈদ এর সাথে মনমালিন্য দেখা দেয় স্ত্রী মাহমুদার। মাহমুদা এবার আবার সন্তান সম্ভ্যবা হলে ৮ মাসের অন্তসঃত্ত্বা অবস্থায় কিছুদিন আগে তাকে আলট্রা সোনোগ্রাফি করানো হলে তার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে বলে ডাক্তার জানায়। এ নিয়ে আবু সাঈদ স্ত্রীর উপর নির্যাতন শুরু করে এবং সে মারা গেলে তার কবরে বাতি দেওয়ার কেউ থাকবেনা বলে স্ত্রীকে প্রায় বকাঝকা ও মারধর করতো।
পরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবু সাঈদ তার শাশুড়ি জোছনা বেগমকে মোবাইল ফোনে জানান, আপনার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে তাকে টঙ্গীবাড়ী ইউনাইটেড ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে জোসনা বেগম এবং নিহতের বোন লাবনী ইউনাইটেড ক্লিনিকে আসলে আবু সাঈদ লাবনীকে জানান তোমার বোন ষ্টোক করেছে।
এ ব্যাপারে আবু সাঈদ সাংবাদিকদের জানান, আমার স্ত্রীর আগে একটি কন্যা সন্তান হয়েছে পরে আরেকটি কন্যা সন্তান সম্ভ্যবা হওয়ায় সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।
টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, হত্যার ব্যাপারে সুনিদিষ্ট অভিযোগ কিংবা নিহতের শরীরে হত্যা হলে যে ধরনের অঘাত থাকা প্রয়োজন সে ধরনের অঘাত না থাকায় গ্রেফতারকৃতকে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে যথাযথ আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তবে আসামি যাতে জেল-হাজতে আটক রাখা হয় সেভাবে লিখে দেওয়া হচ্ছে।