স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রোগীদের জিম্মি ধর্মঘট করা যাবে না। চিকিৎসায় আমরা অনেক দুর এগিয়েছি। চিকিৎসকদের ধৈর্য্যধারণ ও মানবতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রোগীদের সাথে ভাল ব্যবহার ও চিকিৎসা দিতে হবে।
শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল কন্সফারেন্স ও লাইভ ওয়ার্কশপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফ। সোসাইটি অব ল্যাপারোসকপিক সার্জন’স বাংলাদেশ এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশের ডাক্তারাই মুমূর্ষু ও জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করছেন। মাগুরায় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশুকে আমাদের ডাক্তরাই চিকিৎসা দিয়ে তার জীবন রক্ষা করেছেন।
এছাড়া রিবল রোগে আক্রান্ত বৃক্ষমানব রোগীকে আমাদের ডাক্তাররাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফল অপারেশন ও চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বিরল রোগীকে সমস্ত চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করছেন।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগী ফেরত দেয়ার কোন সুযোগ নেই। গ্রামের সহজ-সরল ও দরিদ্র রোগীদের যথাসম্ভব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য তিনি চিকিৎসকদের নির্দেশ প্রদান করেন। রোগী চিকিৎসার সময় ডাক্তারদের অনিচ্ছাকৃত কোন ভুলের কারণে ডাক্তারদের অযথা হয়রানি ও হামলা করা যাবে না। এছাড়া চিকিৎসকদের কল্যাণে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
সোসাইটি অব ল্যাপারোসকপিক সার্জন’স বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার এ এইচএম তৌহিদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক ডাক্তার এমএ আজিজ, অধ্যাপক ডাক্তার রশিদ-ই-মাহবুব, অধ্যাপক ডাক্তার এমএ সালাম, অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, অধ্যাপক সামশাদ বেগম, কুষ্টিয়া মডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাক্তার জামাল উদ্দিন মোল্লা, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার ইফতেখার মাহমুদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার এসএম মুস্তানজিদ, অধ্যাপক ডাক্তার সানোয়ার হোসেন, কুষ্টিয়া এবিএম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আমিনুল হক রতন প্রমুখ।
ওয়ার্কশপে সারা দেশ থেকে সার্জারি ও গাইনী বিভাগের তিন শতাধিক সার্জন অংশ গ্রহণ করেন।