২ হাজার শিল্প বিদ্যুত্ গ্যাস না পাওয়ায় চালু হচ্ছে না

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে জ্বালানি নিশ্চয়তা পেতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) শিল্প স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে আপনারা এসইজেডে শিল্প স্থাপন করুন। সেখানে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ও জ্বালানিসহ সবধরনের সেবা সরবরাহ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেব। শিল্পের জন্য জমির সংকট রয়েছে, এসইজেডে বিনিয়োগ করলে সেক্ষেত্রেও সুবিধা পাবেন।
 
গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে ‘৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিল্পখাতে জ্বালানি ও বিদ্যুত্: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে চেম্বারের সভাকক্ষে ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য রহমান মোর্শেদ। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ, সেলিম আকতার খান সহ আরও অনেকে।
 
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বিদ্যুতের দাম কিছুটা বেশি হলেও এ খাতের বিনিয়োগকে সামাজিক খাতের বিনিয়োগ হিসেবে ভাবতে হবে। কারণ বিদ্যুতের কারণেই প্রকারান্তরে আমাদের গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, শিক্ষা মৃত্যুর হার হ্রাস এবং নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ছে। অতএব বিশ্বব্যাংক ও এডিবি যা-ই বলুক এ খাতে কিছুটা ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। তাছাড়া আমরা দ্রুত বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানোর কারণে খরচ কিছুটা বেড়েছে। আগামী ৫ বছরে ১০০টি কূপ খনন করা হবে। জ্বালানি খাতে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে গবেষণাতেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুত্ আমদানির পাশাপাশি এলএনজি আমদানির চেষ্টা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকেও গ্যাস আমদানির প্রচেষ্টা চলছে।
 
সভাপতির বক্তব্যে হোসেন খালেদ বলেন, বিভিন্ন স্থানে অন্তত দুই হাজার শিল্প-কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুত্, গ্যাস ও পানির সংযোগ না পাওয়ার কারণে উত্পাদন প্রক্রিয়া চালু করতে পারছে না, তিনি এ ধরনের কারখানাগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংযোগ প্রদান করার আহবান জানান। বর্তমানে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। অথচ গ্যাসের বিল নেয়া হচ্ছে পূর্ণ চাপের মতো। তাই ইকোনোমিক্যাল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি মেজারমেন্ট (ইপিএম) পদ্ধতি চালু করা দরকার। তিনি জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করলে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। রহমান মোর্শেদ বলেন, সারা বিশ্বে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
 
সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম তামিম। নিবন্ধের উপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল  এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস এসোসিয়েশনের পরিচালক ইমরান করিম। ম. তামিম বলেন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হলোঃ বিদ্যুত্, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জমি।