ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে দেশ!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের মোবাইল ফোনে গত কয়েক দিনে গড়ে চারশ ফোন এসেছে। সবাই টিকিট চাইছেন। তাদের স্ত্রী’দের কাছেও টিকিটের চাহিদা জানাচ্ছেন পরিচিতরা। খেলাধুলায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অনেক ব্যক্তির কাছেও ধর্ণা দিচ্ছে লোকজন। দাবি একটাই: এশিয়া কাপ ফাইনালের একটি টিকিট চাই। টিকিটের জন্য দর্শকরা নানা জায়গায় ছুটছেন। অর্থ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। যত টাকাই লাগুক ফাইনাল দেখতে হবে।   রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন মহল থেকে শুরু করে একজন সাধারণ দর্শকও টিকিট পেতে চাইছেন। কারণ ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান তারা। স্টেডিয়ামে মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিমদের মারমুখো নৈপুণ্য দেখতে চান সামনে বসে।
 
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুরে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই খেলা ঘিরে উত্তেজনায় কাঁপছে পুরো দেশ। সচিবালয়ের বড়কর্তা থেকে শুরু করে একজন রিকশাচালক পর্যন্ত আজকের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন। ধানমন্ডির এক রিকশাচালক তো বলেই ফেললেন, ‘ভাই কালকে (আজ) গাড়ি চালামু না। সন্ধ্যার পর রাস্তায় প্যাসেঞ্জার কম থাকবো। আমি বাসায় যামু। পর্দায় খেলা দেখমু।’
 
শুধু ধানমন্ডি নয়, রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বারিধারা, কলাবাগান, ধানমন্ডি, মিরপুর, সোবাহনবাগসহ গোটা দেশেই একই পরিস্থিতি। মানুষের মুখে মুখে আজকের ফাইনাল। তিন হাজার টাকার টিকিট ১২ হাজার টাকায় কিনেছেন বাড্ডার আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স। বললেন,  ‘১২ হাজার টাকায় না কিনলে পরে ২০ হাজার টাকায় কিনতে হবে।’
 
গণমাধ্যমও ব্যস্ত আজকের ফাইনাল ঘিরে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আজ খেলা শুরু হওয়ার আগে মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে একাধিক ক্যামেরা সেটআপ পাঠাচ্ছেন। কারণ স্টেডিয়ামের বাইরেই থাকবে বেশি দর্শক উপস্থিতি,  বেশি উত্তেজনা।
 
অনেকে মাঠে যাবেন না, টিভি পর্দায় খেলা দেখবেন। এ কারণে গতকাল অনেকেই টিভি কিনেছেন। ফাইনালের উত্তেজনায় টিভি কিনেছেন যাত্রাবাড়ীর আহসান উল্লাহ করিম। মেয়ে নুজহাত চৌধুরী এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে বলে উত্তর কাফরুলের মান্নান চৌধুরী টিভি দেখা বন্ধ রেখেছিলেন। তিনিও বাড়িতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা টিভিটি পরিস্কার করেছেন। আবার অনেকে কেবল লাইনম্যানের সাথে যোগাযোগ করেছেন যেন ঝকঝকে ছবি দেখা যায়। বিদ্যুত্ অফিসগুলোও মাথায় রেখেছে যেন আজ বিদ্যুত্ সরবরাহে কোন সমস্যা না হয়।
 
দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও চলছে আজকের ফাইনাল নিয়ে যত আলোচনা। ইতিমধ্যে কলকাতা থেকেও কয়েক হাজার বাঙালি এই ফাইনাল খেলা দেখতে ঢাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে।