এ এক বিদায়েরও ম্যাচ

শীত যায়, গরম আসে। সারা দুনিয়ার মতো মিরপুরেও বদলাতে থাকে সময়।
 
বদলায় না কেবল শোয়েব আলীর এবং তার হাতের জাতীয় পতাকা। বাংলাদেশের খেলা থাকুক, অনুশীলন থাকুক, আর কিচ্ছু না থাকুক; ‘টাইগার’ শোয়েব আলী একটা জাতীয় পতাকা দোলাতেই থাকে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে।
 
সংবাদ সম্মেলন থেকে ফেরার পথেও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে কথা বলতে হচ্ছিলো। বিদেশি সাংবাদিকরা ছেকে ধরেছেন নানা বিষয়ে কথা শোনার জন্য। সব শেষ করে ড্রেসিংরুমে ঢোকার সময় এক লহমা থমকে দাঁড়ালেন। শোয়েব আলীর হাতে দুলতে থাকা পতাকাটার দিকে একটু তাকালেন।
 
কী ভাবলেন কে জানে!
 
ভাবনাটা গোপন থাকলেও খবরটা খুব একটা গোপন নয়। আজ এক অর্থে মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ী ম্যাচ। দেশের মাটিতে আর কখনো সম্ভবত টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা হবে না কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এই ক্রিকেটারের।
 
টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফির যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ দলের সাথেই। খুলনায় ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে খেলার ভেতর দিয়ে শুরু এই ফরম্যাটে। মাঝে কয়েক দফা বিশ্রামে থাকতে হয়েছে। তবে ২০১৪ সালে এই ফরম্যাটেই সাময়িক অধিনায়ক হিসেবে ফেরেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর সে বছরের শেষ দিকে তো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পান।
 
গত কিছুদিন ধরেই জোর গুঞ্জন চলছে, মাশরাফি আর বেশি দিন টি-টোয়েন্টি খেলবেন না। ভেতরে ভেতরে এমন একটা কথা ঘুরছে যে, আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পরই এই ফরম্যাটকে বিদায় বলে দেবেন মাশরাফি। আর সে ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততম ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটা খেলবেন তিনি ভারতের মাটিতে।
 
আর কাকতালীয়ভাবে আজ এশিয়া কাপের শেষ ম্যাচটা হয়ে যাচ্ছে তাই দেশের মাটিতে মাশরাফির শেষ ম্যাচ। এ নিয়ে অবশ্য মাশরাফি একটুও মুখ খুলতে রাজি নন। যতদূর জানা গেছে, দলকে বিক্ষিপ্ত না করতেই ব্যাপারটা নিয়ে উচ্চবাচ্চ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
 
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উঠেছিল প্রশ্নটা। মাশরাফি ব্যাপারটা গুরুত্ব দিতে চাইলেন না। তিনি পরিষ্কার বললেন, এশিয়া কাপ ফাইনাল এতো বড় ব্যাপার যে, তার কাছে তার শুরু বা শেষ খুব বিবেচ্য ব্যাপার নয়, ‘কে বলেছে শেষ ম্যাচ? অনেকে বলেছে, আমি তো বলিনি! আপনি যেটা বলছেন—আমাদের জন্য বড় একটি ম্যাচ। আমার শুরু বা শেষ কোনো ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ম্যাচ। আমরা সর্বোচ্চটা চেষ্টা করব।’