আইফোনের লক খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের মধ্যে চলা লড়াই বন্ধ হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এই লড়াই বন্ধ হতে পারে। এতে বিভাজন সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত এড়াতে পারবে আদালত।
এই লড়াই থামবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতার মাধ্যমে। সব গ্রাহকের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না ফেলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কীভাবে সহায়তা করতে পারে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো, তারই গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার জন্য যথেষ্ট গবেষণার ঘোষণা দিয়েছেন ওই আইনপ্রণেতারা। আর এর সূত্র ধরে এফবিআই ও অ্যাপলের মধ্যে চলা লড়াই বন্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এএফপি এক খবরে জানিয়েছে, এই লড়াই থামাতে সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল কমিশন অন সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি চ্যালেঞ্জেস’ নামের একটি ১৬ সদস্যের কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক ম্যাকোল। এনক্রিপশন ইস্যুতে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা খুঁজে বের করবে এই কমিশন।
তবে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন না ডিজিটাল মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একবার এনক্রিপটেড নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেলে আর তা বন্ধ করা যাবে না।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সান বার্নাডিনোয় এক হলিডে পার্টিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় সৈয়দ রিজোয়ান ফারুক নামে এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের ব্যবহৃত আইফোন আনলকের প্রয়োজন পড়ে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের। তারা তখন আইফোনের এনক্রিপশন কোড ভেঙে দিতে বলে অ্যাপলকে। অ্যাপল জানায়, আইফোন আনলক করে দেয়াটা তাদের নীতির পরিপন্থী। ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকেই।