সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মৈশাইর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ওরফে জালালের (৩৮) গ্রামের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম। জীবিকার সন্ধানে তিনি গত নয় বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবের রিয়াদে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। আদরের বড় ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন বৃদ্ধ মা আয়েশা খাতুন। স্বামীকে হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী হামিদা বেগম। বাবার মৃত্যুর খবরে চঞ্চল তিন শিশু সন্তান হয়ে গেছে নিশ্চুপ। শনিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মোহাম্মদ আলী ওরফে জালাল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে গত নয় বছর আগে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদিতে যান ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী। সর্বশেষ গত সাত মাস আগে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এরই মধ্যে বাড়িতে এক মাস অবস্থান করে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার চার মাস পর ব্রেইন স্ট্রোকে মারা যান তার বাবা আব্দুস সোবাহান ওরফে কাশেম। তিন মাসে না পেরুতেই পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জালালের দুই ছেলে ও এক মেয়ে মৈশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
নিহতের মা আয়েশা খাতুন ও তার স্ত্রী হামিদা বেগম জানান, শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মোহাম্মদ আলী। এরপর সকাল ১০টার পরে মোবাইল ফোনে সৌদি থেকে মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়। তারা দ্রুত মোহাম্মদ আলীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন।