জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর, সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৫তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগৎখ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমণ্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এবার ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে জাতীয়করণের দাবি উঠেছে সর্বত্র।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে গতকাল প্রথম প্রহর থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে মাইকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিনাশী ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, একেএম এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বঙ্গবন্ধু ভবন প্রঙ্গণে সোমবার বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজারো নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে অভিন্ন স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘মুজিবের বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’ ‘অবৈধ হরতাল-অবরোধ মানি না মানবো না, সহিংসতা রুখে দেবো’। এমন স্লোগানে ধানমন্ডির আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা আর শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি মূর্ত করে তোলে ইতিহাসের সেই অমর দিনটিকে। বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ই মার্চ উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।
যুবলীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, হকার্স লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, যুব শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, মোটরচালক লীগ, ওলামা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বাকশাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক সমিতি, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ), বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সচেতন শিক সমাজ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, ফকির আলমগীরের নেতৃত্বে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী, সোনালী ব্যাংক এমপয়ীজ ইউনিয়ন, ঢাকা প্রবাসী সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমি, সোনার বাংলা যুব পরিষদ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ঢাকাস্থ টুঙ্গিপাড়া সমিতি, হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠী, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, ফাদার অব ন্যাশনস অর্গানাইজেশন, ফোর্স অব বঙ্গবন্ধু, স্বদেশ ফোরাম, বঙ্গবন্ধু ডিপোমা কৃষিবিদ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, নাগরিক কমিটি, আইন সমিতি, শিশু-কিশোর যুব সাংস্কৃতিক জোট, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা উত্তরসূরি ফোরাম, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, যুব সাংস্কৃতিক জোটসহ অসংখ্য দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিৃকতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।