মাত্র কিছুদিন আগেই ইত্তেফাক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে বলছিলেন তিনি, “মৃত্যুর আগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা বড় প্রেক্ষাপটের ছবি বানাতে চাই। মনে মনে তারই প্রস্তুতি চলছে।”
হায় নিয়তি! নির্মাতার সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেলো। না ফেরার দেশে চলে গেলেন গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। গতকাল সোমবার ধানমন্ডিতে নিজ বাসার সামনে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
খালিদ মাহমুদ মিঠুর পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ৪ নম্বর সড়কে রিকশা করে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে রিকশার উপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিত্সক এই মেধাবী চিত্র নির্মাতাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র অনেকেই তার বাসায় ছুটে যান।
এর মধ্যে ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, তোকির আহমেদ, বিপাশা হায়াতসহ অনেকে।
খালিদ মাহমুদ মিঠুর খুব ঘনিষ্ঠজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “মিঠু আমার পরিবারের সদস্যের মতো ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যু আমাদের সংস্কৃতির জন্য বড় ক্ষতি। আল্লাহর কাছে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বলেন, “খুব ভালো মনের মানুষ ছিল সে। হঠাত্ এভাবে এত প্রিয় মানুষের মৃত্যুসংবাদ শুনবো! ভাবিনি।”
অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, “মিঠু ভাই সব সময় আমাকে খুব উত্সাহ দিতেন। আমাদের ভেতরে চলচ্চিত্র নিয়ে প্রায় সময়ই কথা হতো। আমাদের চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে কিভাবে আরো তুলে ধরা যায়, সেই আলোচনা হতো তার সাথে। এই ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না।”
কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ মিঠু ভাই এভাবে চলে যাবেন! কত কত প্ল্যান করলেন, কিছুই মেলাতে পারছি না।”
চিত্রশিল্পী কনকচাঁপা চাকমা-চলচ্চিত্রকার খালিদ মাহমুদ মিঠু দম্পতির দুই সন্তান- আর্য শ্রেষ্ঠ ও শিরোপা পূর্ণা। বড় ছেলে আর্য শ্রেষ্ঠ ইংল্যান্ডে অবস্থান করায়, তিনি ঢাকায় আসলেই দাফনের বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে। সে পর্যন্ত মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।
খালিদ মাহমুদ মিঠু ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৬ সালে তিনি এমএফএ করেন। তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘গহীনে শব্দ’। আর এই প্রথম ছবিই তাকে এনে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির সম্মান। ছবি আঁকা, চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন মিঠু।