যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সাংবাদিক এরিন অ্যান্ড্রুজের পোশাক বদলানোর দৃশ্য গোপনে ধারণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাকে সাড়ে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারকরা এ ঘটনার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং যে ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করেছেন উভয়কেই দায়ী করেছে।
ক্ষতিপূরণের এই অর্থ উভয়কেই বহন করতে হবে বলে বিবিসি জানিয়েছে। ২০০৮ সালে ন্যাশভিল ম্যারিয়ট হোটেলে অ্যান্ড্রুজের রুমের দরজার ছিদ্র দিয়ে ওই ভিডিও ধারণ করেন মাইকেল ডেভিট বারেট নামের এক ব্যক্তি। তিনি ২০০৯ সালে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন। আর এরপরই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ফক্স চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক অ্যান্ড্রুজ ইএসপিএনের জন্যও কাজ করতেন। তিনি এই ভিডিওর জন্য ন্যাশভিল হোটেলের মালিক দুটি কোম্পানি ও বারেটের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছিলেন।
শিকাগোর একটি বীমা কোম্পানির নির্বাহী বারেট এই ভিডিও ধারণ করার কথা স্বীকার করেন। তিনি টাকা উপার্জনের জন্য এই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। সেলিব্রেটি গসিপ সাইট টিএমজেড-এর কাছে এটি বিক্রি করতে চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এটি অনলাইনে ছেড়ে দেন। আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি বারেটকে আড়াই বছরের কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। বারেট জানান, তিনি অ্যান্ড্রুজকে নির্বাচন করেছিলেন কারণ তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর ৩৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রুজ কেঁদে ফেলেন এবং তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন। পরবর্তী সময়ে ট্যুইটারে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি আদালত, জুরি, তার আইনজীবীদের এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানান।
ইন্টারনেটে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০০৯ সালে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হলেও এখনো তার জের তাকে বহন করতে হচ্ছে। এখনো প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ নতুন করে ওই ভিডিও ট্যুইটারে পোস্ট করেন, কখনো কখনো তাকে দেখে ফিসফাসও করেন কেউ কেউ।
তিনি আরো জানান, যে সময়ে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিলো, সে সময়ে তাকে কর্মক্ষেত্রেও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অন্য ক্রীড়া প্রতিবেদকেরা তাকে প্রায় একঘরে করে ফেলেছিলেন, নানা ধরনের অরুচিকর মন্তব্যও তাকে শুনতে হচ্ছিল। অ্যান্ড্রুজ জানান, নগ্ন ভিডিও প্রকাশ হওয়ার বিষয়টি আসলে তার প্রচার পাওয়ার কৌশল বলেও অভিযোগ করেছিলেন অনেকে। রয়টার্স।