আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষতার নামে সরকারি দলের ওপরে আইনের খড়গ চালাচ্ছে। এটা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। ইসির সুপারিশে ফেনীর ফুলগাজি উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসির ওই সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের সঙ্গে স্বাক্ষাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মাহবুব-উল আলম হানিফের নেতৃত্বে ছয় সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক ও দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপ।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমকে বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে ইসির আইনি ব্যবস্থা তুলে ধরে হানিফ বলেন, কমিশন কোনও ঘটনা তদন্ত না করে একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কমিশনের নিরপেক্ষতার নামে সরকারি দলের প্রতি অবিচার বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া একজন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিজেরা তদন্ত না করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কারণ আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে এই কর্মকর্তা বিএনপি করেন। এ ক্ষেত্রে কমিশনের উচিত ছিল, নিজেরা তদন্ত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া।
তিনি বলেন, ফেনীর ফুলগাজিতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এর বহি:প্রকাশ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বাধার ঘটনা ঘটতে পারে।
গত ২ মার্চ ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে ফেনীর ফুলগাজির ছয়টি ইউপির তফসিল বাতিল করে ইসি। একই সঙ্গে মনোনয়ন জমাদানে বাধা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের একজন কর্মচারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইসির সুপারিশে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওই উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।